জাহিদ হাসান, বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শপিংমল ও দোকানপাটের ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। একসময় ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর থাকা অনেক মার্কেটে এখন আগের মতো বেচাকেনা হচ্ছে না। কোথাও ক্রেতার উপস্থিতি কমেছে, আবার কোথাও ব্যবসার খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, শপিংমল ও দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে মূল কারণ কী—সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার বাধ্যবাধকতা, নাকি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা?
ব্যবসায়ীদের একাংশের ধারণা, সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান ও শপিংমল বন্ধ রাখতে হওয়ায় বেচাকেনা এখন হুমকির মুখে পড়ছে। তাদের মতে, নির্দিষ্ট সময়ের পর দোকান খোলা রাখার সুযোগ না থাকায় অনেক ক্রেতা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মার্কেটে এসে কেনাকাটা করতে পারছেন না। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ ও ব্যস্ত ক্রেতাদের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেনাকাটা শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে বিক্রির পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
অন্যদিকে, অনেকের ধারণা, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ বেড়ে যাওয়ায় প্রচলিত দোকান ও শপিংমলগুলোতে ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে। বর্তমানে ঘরে বসেই পছন্দের পণ্য দেখা, দাম যাচাই এবং অর্ডার করার সুযোগ থাকায় অনেক ক্রেতা সরাসরি মার্কেটে যাওয়ার পরিবর্তে অনলাইন কেনাকাটায় ঝুঁকছেন। ফেসবুক পেজ, অনলাইন শপ ও বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে প্রচলিত ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতাও বেড়েছে।
তবে শুধু সময়ের সীমাবদ্ধতা কিংবা অনলাইন কেনাকাটাকেই ব্যবসায় মন্দার একমাত্র কারণ হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল, পণ্যের ক্রয়মূল্য এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বিক্রি কমে যাওয়ার বিপরীতে এসব খরচ বহন করতে গিয়ে অনেক ব্যবসায়ী লোকসানের মুখে পড়ছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, ক্রেতাদের কেনাকাটার অভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসার ধরন ও সময়সূচি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় প্রচলিত মার্কেটের ব্যবসা আরও সংকটের মুখে পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে শপিংমল ও দোকান বন্ধের পেছনে সময়ের সীমাবদ্ধতা, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের প্রভাব এবং ব্যবসায়িক ব্যয়ের চাপ—বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসছে। তবে প্রকৃত কারণ ও প্রভাব নির্ধারণে ব্যবসায়ী সংগঠন, মার্কেট কর্তৃপক্ষ, ক্রেতা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার নিয়ম, নাকি অনলাইন কেনাকাটার প্রতি ক্রেতাদের বাড়তি আগ্রহ; কোনটি বেশি প্রভাব ফেলছে প্রচলিত শপিংমল ও দোকানগুলোর ব্যবসায়?