মোঃ শাহজাহান বাশার 

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার টিউরী ৬নং ওয়ার্ডে মরহুম সাইফুল ইসলাম আল মাইজভান্ডারীর স্মরণে ইসালে সওয়াব, মিলাদ, জিকির ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩ তারিখ মঙ্গলবার ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে আয়োজিত এ মাহফিলে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।

টিউরী ৬নং ওয়ার্ডের বিশিষ্ট সমাজসেবক মুহাম্মদ নাজমুল হাই (মামুন)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সুফিজের প্রেসিডেন্ট শাহসূফী ডক্টর সায়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমেদ আল হাসানী মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ.)।

মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মাওলানা মুহাম্মদ মনছুর আলী মাইজভান্ডারী। তিনি পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসালে সওয়াবের গুরুত্ব, ফজিলত এবং মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও নেক আমলের তাৎপর্য তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহসূফী ডক্টর সায়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমেদ আল হাসানী মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ.) বলেন, “মৃত্যুর পরও আত্মিক সংযোগ রক্ষা করার অন্যতম মাধ্যম হলো ইসালে সওয়াব। জীবিত ও মৃত মুমিনদের মধ্যে ভালোবাসা ও কল্যাণের বন্ধন অটুট রাখতে দান-সদকা, দোয়া এবং কোরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব অপরিসীম। এসব নেক আমলের সওয়াব মৃত ব্যক্তির জন্য উৎসর্গ করা যায়।”

তিনি আরও বলেন, প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তাঁদের স্মরণে দোয়া ও ইসালে সওয়াবের আয়োজন করা মুসলমানদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও ধর্মীয় চেতনার বহিঃপ্রকাশ।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নাজমুল হাই (মামুন) বলেন, মরহুম সাইফুল ইসলাম আল মাইজভান্ডারীর স্মরণে এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা এবং মানুষের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করা।

মাহফিলের শেষ পর্যায়ে মরহুম সাইফুল ইসলাম আল মাইজভান্ডারীর রুহের মাগফিরাত কামনা এবং দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রধান অতিথি শাহসূফী ডক্টর সায়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমেদ আল হাসানী মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ.)।

এ সময় উপস্থিত মুসল্লিরা গভীর আবেগ ও বিনম্র শ্রদ্ধার সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নেন। পরে উপস্থিত সবার মধ্যে তবারক বিতরণের মাধ্যমে মাহফিলের সমাপ্তি ঘটে।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করার পাশাপাশি সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।