এ কে এম আজাদ, নিজস্ব প্রতিনিধি

 

‎কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের যুবদল নেতা মিজানুর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৯/০৬/২০২৬ ইং) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরীর ঠাকুর পাড়া এক পরিত্যক্ত বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

‎‎আহত মিজানুর রহমান জানান, সোমবার রাতে টাউন হল মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখতে গেলে তার সঙ্গে একই এলাকার রাফি ও সিয়ামের দেখা হয়। এ সময় রাফি তাকে চা খাওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে ঠাকুর পাড়া একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর মিজানুর রহমান কারণ জানতে চাইলে রাফি অপেক্ষা করতে বলে। কিছুক্ষণ পর রাফির আরও কয়েকজন বন্ধু সেখানে আসলে রাফি তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কটূক্তি করে এলোপাতাড়ি লাঠি দিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মিজানুর রহমান অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

‎

‎পরে রাস্থার পাশ থেকে চিল্লা পাল্লা শোনতে পেরে ঘটনাস্থলে রবিন ও সিয়াম এসে আহত মিজানুর রহমানকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

‎মিজানুর রহমানের বাবা জানান, রাত প্রায় ১০টার দিকে ফোনে জানতে পারেন তার ছেলেকে কু/পিয়ে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান।

‎

‎এ বিষয়ে বারেরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মতিন জানান, ঘটনার পর স্থানীয় রবিন তাকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে তিনি মিজানুর রহমানের পরিবারকে বিষয়টি জানান।

‎

‎হামলার কারণ সম্পর্কে মতিনের দাবি, অভিযুক্ত রাফি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে মিজান এবং মতিন মেম্বার গিয়ে রাফির পরিবারের কাছে অভিযোগ দেয়। সেই ঘটনার জের ধরেই কুমিল্লা শহরে একা পেয়ে রাফি ও তার সহযোগীরা মিজানুর রহমানের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

‎তবে অভিযুক্ত রাফির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎অভিযুক্তের বাবা আবু হানিফ বলেন, ঘটনার পর থেকে আমার ছেলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। তবে কিছুদিন আগে মিজানুর রহমানের সঙ্গে চলাফেরা করে এমন কয়েকজন আমার ছেলেকে মারধর করেছিল। সেই ঘটনার জের ধরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।”

‎এ ঘটনায় স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন,

‎চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। মামলা হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎