জহুরুল ইসলাম জুয়েল, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বাহাউদ্দীনের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, টেন্ডারে অনিয়ম ও কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. আমীর হামজা পিন্টু। অভিযোগের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং দুদক চেয়ারম্যানের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগপত্র ও এর সঙ্গে সংযুক্ত নথিতে হাসপাতালের বিভিন্ন খাতে কেনাকাটা এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এমএসআর সামগ্রী না কিনে পুরোনো মালামাল রং করে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। একইভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পরিচ্ছন্নতা ও মনিহারি সামগ্রী কেনার নামেও অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে বিভিন্ন ক্রয়খাতে বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বিভিন্ন আকারের ময়লার বিন কেনার জন্য ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪৫০ টাকা, আইপিএস ও ফিটিংসের জন্য ৩ লাখ ৭১ হাজার ২৫০ টাকা, রেফ্রিজারেটর কেনায় ১৮ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১০টি স্প্লিট এসি কেনার জন্য ১৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দের তথ্য রয়েছে।

এ ছাড়া ঘাস কাটার ও ফটোকপি মেশিন কেনার জন্য ২১ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, বাজারদরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মূল্য দেখিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ কোটি ৪৬ লাখ ৮ হাজার ৯৭৪ টাকার বিল প্রদর্শনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

*অভিযোগকারীর দাবি, দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই:*

অভিযোগকারী মো. আমীর হামজা পিন্টু বলেন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বাহাউদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় বাধা দেওয়া এবং হাসপাতালের প্রধান ফটক বন্ধ রাখার অভিযোগও করেন তিনি।

আমীর হামজা পিন্টুর দাবি, অনিয়মের প্রমাণসহ দুদকে অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

*অভিযোগ অস্বীকার ঠিকাদার ও তত্ত্বাবধায়কের:*

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাজনিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মিলন হোসেন। তিনি বলেন, ই-জিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) ব্যবস্থায় কাগজপত্র জালিয়াতি করে আবেদন করার সুযোগ নেই। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বাহাউদ্দীনও অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন। সংশ্লিষ্ট নথি পেতে দাপ্তরিকভাবে আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ইকবাল হোসেন কচি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।