নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল
সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন, চাকরির নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত না করে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন
দেশে সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের সংবাদকর্মীদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, ন্যায্য বেতন, চাকরির নিরাপত্তা এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত না করে লাইসেন্স বা নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ বাস্তব সমস্যার সমাধান নয়; বরং তা নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাংবাদিকতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পেশা। প্রতিদিন জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের হামলা, মামলা, হুমকি ও নানা ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। অথচ দেশের বহু গণমাধ্যমে এখনো ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়িত হয়নি, অনেক সাংবাদিক মাসের পর মাস বেতন পান না, আবার অনেকেই লিখিত নিয়োগপত্র ছাড়াই কাজ করছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত অসংখ্য সংবাদকর্মীর অবস্থা আরও নাজুক।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের ভাষ্য, একজন সাংবাদিক যখন নিজের পরিবারের ন্যূনতম ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হিমশিম খান, তখন তাঁর কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত মান বজায় রাখার প্রত্যাশা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই সাংবাদিকতার মানোন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ ও আর্থিক নিরাপত্তা।
সাংবাদিক সমাজের দাবি, রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত সংবাদকর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক নিয়োগপত্র, শতভাগ ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন, নিয়মিত বেতন প্রদান, বকেয়া পরিশোধ এবং কর্মস্থলে আইনি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহের সময় হামলা-হয়রানির ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাও জরুরি।
তাদের মতে, রাষ্ট্র যদি সাংবাদিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে, তাহলে সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোও দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও যোগ্য সাংবাদিক নিয়োগে বাধ্য হবে। এতে স্বাভাবিকভাবেই অপেশাদার ও ভুয়া সাংবাদিকতার প্রবণতা কমবে এবং গণমাধ্যমের মান উন্নত হবে।
সাংবাদিক নেতাদের অভিমত, কেবল লাইসেন্স বা নিবন্ধনের মাধ্যমে পেশাদার সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সাংবাদিকবান্ধব নীতিমালা, বাস্তবসম্মত শ্রমনীতি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কার্যকর উদ্যোগ।
তাদের ভাষায়, “সাংবাদিকের হাতে আগে সম্মানজনক জীবিকার নিশ্চয়তা তুলে দিন, তারপর পেশাগত লাইসেন্সের কথা বলুন। ক্ষুধার্ত মানুষের কাঁধে নতুন শর্তের বোঝা চাপিয়ে প্রকৃত সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।”
গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকতার ভূমিকা অপরিসীম। তাই সংবাদকর্মীদের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই পেশাগত সংস্কার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বার্তা একটাই—”আগে পেটে ভাত, তারপর লাইসেন্স।”

