জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল
নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার হাওরবেষ্টিত ৩ নম্বর তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ৪৮ নম্বর পশুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে ২৫০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণের মাধ্যমে।
সম্প্রতি কংস নদীর তীব্র স্রোতে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র সড়কের একটি অংশ ভেঙে গেলে টানা ১০–১২ দিন ধরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও এলাকাবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ হুমায়ূন খান-এর অর্থায়নে প্রায় ২৫০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। সাঁকোটি চালু হওয়ার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষের চলাচল আবারও স্বাভাবিক হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে মোঃ হুমায়ূন খান দ্রুত সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তাঁর নির্দেশনায় মোঃ জিয়াদ খান নির্মাণকাজের নেতৃত্ব দেন এবং এলাকাবাসীর সক্রিয় সহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যেই সাঁকো নির্মাণ সম্পন্ন হয়।
সাঁকো নির্মাণে সহযোগিতা করেন মোঃ জিয়াদ খান, মোঃ মহসিন খান, মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম টিটন (সভাপতি, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি), মোঃ সাদ্দাম শেখ জয় (সম্মানিত সদস্য, উপজেলা কলেজ ছাত্রদল), অলিউল্লাহ খান, আবু সায়েম খান, মোঃ জুনায়েদ শেখ, মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান, মোঃ জীবন খান, মোহাম্মদ ফয়সাল খান, মোঃ আশিক খান, মোহাম্মদ উৎপল খান, মোহাম্মদ হিরা শেখ, রাজু, মোঃ রাইকেল মিয়া, মোঃ জিগির্লাল চৌধুরী, ফুল মিয়া শেখ, মোঃ ময়না মেস্তরি, ওজি ইসলাম, মোহাম্মদ পিপল খানসহ এলাকার অসংখ্য যুবক, মুরব্বি ও সর্বস্তরের মানুষ।
এলাকাবাসী এই মানবিক উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়ে সাঁকো নির্মাণে সহযোগিতাকারী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কংস নদীর ভাঙনকবলিত স্থানে দ্রুত স্থায়ী সড়ক নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

