মোঃ মহিবুল্লাহ মেহেদী, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাড়াইকান্দি গ্রামের একটি খালের ওপর প্রায় কোটি টাকার ব্যয়ে নির্মিত সেতু এখনো জনসাধারণের কার্যকর ব্যবহারের বাইরে। কারণ, সেতুর দুই পাশে প্রয়োজনীয় অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয়দের বাঁশ ও কাঠের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো দিয়েই পারাপার করতে হচ্ছে। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে নির্মিত সেতুর মূল কাঠামোর কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। সেতুর দুই প্রান্তে গভীর গর্ত ও অসমতল অংশ থাকায় স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন। তবে সেটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। অনেককে বাইসাইকেল কাঁধে নিয়ে সাঁকো পার হতে দেখা গেছে। এছাড়া কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করছেন। বর্ষা মৌসুমে সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী সেতুর উভয় পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই কাজ সম্পন্ন করেনি। অথচ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে তাদের দাবি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাড়াইকান্দি খালের ওপর ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের সেতুটি নির্মাণে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়ে জুন মাসে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল মেসার্স রামিম এন্টারপ্রাইজ। তবে এখনো অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ শেষ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “এত টাকা খরচ করে সেতু নির্মাণ হলেও ওঠানামার রাস্তা না থাকায় আমাদের বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।”
কলেজ শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান বলেন, “বর্ষাকালে সাঁকো আরও বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হলে এই সেতুর কোনো সুফল মানুষ পাবে না।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মেসার্স রামিম এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার জিয়াউর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
একইভাবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিউর রহমানের সরকারি নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অফিসে গিয়েও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, খালে পানি থাকায় অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে, সেই অংশের বিপরীতেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে এবং দ্রুত সেতুটি পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

