ঢাকাFriday , 10 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলামিক
  7. কবিতা
  8. কলাম
  9. কুমিল্লা জেলার খবর
  10. খেলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা খবর
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. দৈনিক জনতার মতামত পরিবার
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গোমতীর পানিতে তলিয়ে বিস্তীর্ণ সবজিক্ষেত, ক্ষতির মুখে হাজারো কৃষক

News Admin
July 10, 2026 6:34 am
Link Copied!

৫৯

মোঃ শাহজাহান বাশার

উজানের পাহাড়ি ঢলে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কুমিল্লার বুড়িচং ও আদর্শ সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে লাউ, চিচিঙ্গা, মুলা, ডাঁটা শাক, চালকুমড়া, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক এ জলাবদ্ধতায় হাজারো কৃষক চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

সরেজমিনে বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এবং আদর্শ সদর উপজেলার কাচিয়াতলী ও আমতলী চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিন আগেও সবুজে ভরা সবজিক্ষেত এখন পানির নিচে। কোথাও গাছের ডগা পানির ওপর ভাসছে, আবার কোথাও নষ্ট হয়ে যাওয়া শাকসবজি পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছে। অনেক কৃষক কোমরসমান পানিতে নেমে সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার আগেই যতটুকু সম্ভব ফসল তুলে আনার চেষ্টা করছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসল রক্ষার কোনো সুযোগ পাননি তারা। অধিকাংশ সবজি এখনও বাজারজাত করার উপযোগী হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব অবস্থায় কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচও উঠে আসছে না।

বালিখাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল হক জানান, প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে আগাম জাতের মুলা ও লাউ চাষ করেছিলেন তিনি। কিন্তু গোমতীর পানি বাড়ায় পুরো জমি পানির নিচে চলে গেছে। আরও দুই দিন পানি স্থায়ী হলে কাদার নিচে চাপা পড়ে চারাগুলো সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা তার।

কাচিয়াতলী এলাকার কৃষক আবদুল জলিল বলেন, তার ডাঁটা শাক, পুঁইশাক ও চালকুমড়ার ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। একই ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন ভান্তি, কামারখাড়া, বালিখাড়া ও আশপাশের এলাকার শতাধিক কৃষক।

কৃষক বাহার মিয়া বলেন, ‘লাউ, চিচিঙ্গা, মুলা, ডাঁটা শাক ও চালকুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি কাঁচা অবস্থাতেই তুলে নিতে হচ্ছে। পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আগে যা পারছি বিক্রি করছি। এতে লাখ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’

স্থানীয়দের দাবি, গোমতী নদীর পানি এখনও ধীরে ধীরে বাড়ছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরও নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এতে আমনের বীজতলা ও অন্যান্য কৃষি ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছেন। জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, গোমতী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বাড়ছে। কয়েকটি নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।