মোঃ মহিবুল্লাহ মেহেদী, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ও সোনারায় ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতার কারণে শতশত একর কৃষিজমিতে আমন ধানসহ মৌসুমি ফসলের আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য সরকারি কালভার্ট ও একাধিক সেতু থাকলেও বিভিন্ন স্থানে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে ছোট ছোট জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
ভুক্তভোগী কৃষকদের করা লিখিত অভিযোগে জানা যায়, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমত, তালুক ফলগাছা, মনিরাম, মনিরাম কাজী এবং সোনারায় ইউনিয়নের পশ্চিম শিবরাম এলাকার বর্ষার পানি পাঁচটি সেতুর নিচ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হয়ে পূর্বদিকে চলে যেত। কিন্তু সম্প্রতি ইটভাটায় মাটি পরিবহনের সুবিধার্থে নিচু পানি প্রবাহের স্থানে উঁচু রাস্তা নির্মাণ এবং কয়েকটি স্থানে পুকুরের পাড় তৈরি করে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব কারণে চলতি আমন মৌসুমে শতশত একর কৃষিজমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। দীর্ঘদিন সমস্যার সমাধান না হলে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও করছেন অনেকে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এমদাদুল হক নিশিত ও শমেস উদ্দিন বলেন, জলাবদ্ধতার জন্য শুধু তাদের দায়ী করা ঠিক নয়। তাদের দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের জমি ভরাট ও উঁচু করায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে কৃষিজমি পানিতে ডুবে রয়েছে। কোথাও কোথাও শেওলা জমে জমিগুলো ছোট ছোট পুকুরের মতো রূপ নিয়েছে। একসময় তিন ফসলি হিসেবে পরিচিত এসব জমিতে এখন অধিকাংশ কৃষক বছরে মাত্র একবার, বোরো মৌসুমে চাষাবাদ করতে পারছেন।
এদিকে উপজেলার অন্য এলাকায় কৃষকরা সেচের মাধ্যমে আমনের চারা রোপণে ব্যস্ত থাকলেও জলাবদ্ধ এলাকায় জমি অনাবাদি পড়ে রয়েছে। ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের আয়ের প্রধান উৎসও হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, সরকারি অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বাঁধ, রাস্তা ও পাড় নির্মাণের কারণে পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনে আরও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। বামনডাঙ্গা ও সোনারায় ইউনিয়নের কিছু এলাকায় কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। খুব শিগগিরই সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

