ঢাকাSunday , 12 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলামিক
  7. কবিতা
  8. কলাম
  9. কুমিল্লা জেলার খবর
  10. খেলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা খবর
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. দৈনিক জনতার মতামত পরিবার
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আহলে বায়তের নামের পরে বা শেষে “(عليه السلام) “আলাইহিস সালাম” এঁর ব্যবহার-মাওলানা কাজী আল ইমরান’

News Admin
July 12, 2026 5:40 am
Link Copied!

৮৯

আলাইহিস সালাম’ যে কেবল নবী- রাসূলদের নামের শেষে ব্যবহার করা হয় তা কিন্তু নয়।যেমন: আমরা হযরত লোকমান, হযরত মারিয়াম এবং ইমাম মাহদীর নামের শেষে ‘আলাইহিস সালাম’ ব্যবহার করি অথচ তারা কেউই নবী-রাসূল নন।শুধু তাই নয়, ফেরেশতাদের নামের সাথেও আমরা ‘আলাইহিস সালাম’ ব্যবহার করি।

“আলাইহিস সালাম’ বাক্যটির অর্থ হলো উনার (তাঁর) উপর সালাম অর্থাৎ খাছ শান্তি বর্ষিত হোক।এটি এক বিশেষ প্রার্থনা।উল্লেখ্য,এক মুসলমান অপর মুসলমানের সাথে সাক্ষাত হলে সালাম দেয়া ও নেয়া পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীস শরীফে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সালাম ও সুন্দর কথা বিনিময় সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
«إن من موجبات المغفرة بذل السلام وحسن الكلام»
“সালাম ও উত্তম বাক্য বিনিময় হচ্ছে মাগফেরাত বা ক্ষমা অবধারিত করার অন্যতম মাধ্যম।”
[আলবানী,সিলসিলাহ রিয়াদ: মাকতাবাতুল মা‘আরিফ:১৯৯২;
এক মুসলমানের উপর আরেক মুসলমানের সদ্ব্যবহারের ছয়টি হক্ব রয়েছে।তারমধ্যে প্রথমটিই হচ্ছে يسلم عليه اذا لقيه অর্থাৎ যখন কারো সাথে সাক্ষাৎ হবে তাকে সালাম দিবে।”
[তিরমিযী শরীফ,কিতাবুল আদব,হা/২৭৩৬]
★মূল কথা হলো: একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানের সাথে সালাম বিনিময়ের যে উদ্দেশ্য; কোনো মুসলমানের নামের সাথে আলাইহিস সালাম ব্যবহারের সে একই উদ্দেশ্য। এছাড়া একজনের সালাম আরেকজনের নিকট পৌঁছানোর মাসয়ালা হলো: সে বলবে যে,অমুক ব্যক্তি আপনাকে সালাম দিয়েছেন।এর উত্তরে সালামের উত্তরদাতা বলবেন- وعليك وعليه السلام
অর্থাৎ: আপনার প্রতি এবং যিনি সালাম পাঠিয়েছেন উনার প্রতিও সালাম অর্থাৎ শান্তি বর্ষিত হোক।”
দেখা যাচ্ছে,সালাম প্রেরণকারী ব্যক্তির সালামের জাওয়াব দানকালে উনার ক্ষেত্রে ‘আলাইহিস সালাম’ ব্যবহৃত হচ্ছে। কাজেই বলার সুযোগই নাই যে, ‘আলাইহিস সালাম’ বাক্যটি হযরত নবী ও রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্যই খাছ,বরং অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও ‘আলাইহিস সালাম’ ব্যবহার করা পবিত্র শরীয়ত উনার দ্বারাই প্রমাণিত।
আমরা আরেকটি প্রশ্ন তুলতে পারি যে, পবিত্র কোরআন বা হাদীসের কোথাও কি এমন বর্ণনা রয়েছে যে, কোনো মুসলমানের নামের পর “(عليه السلام)” বা সংক্ষেপে (عليه السلام) ব্যবহার করা যাবে না বা এ ধরনের ব্যবহার হারাম?
আমাদের জানামতে কোরআন-হাদীসের কোথাও এমন নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়নি কিংবা এ ধরনের ব্যবহার যে অপছন্দনীয় তাও কোথাও উল্লেখ করা হয়নি।পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের বর্ণনা অনুযায়ী আল্লাহ মুমিনদের,পরহেজগারদের ও বেহেশতীদের সালাম দিয়েছেন।যেমন: পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে
سَلَٰمٌ قَوْلًا مِّن رَّبٍّ رَّحِيمٍ
অর্থঃ করুণাময় পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে সালাম।
[সূরা ইয়াসীন,আয়াত নং ৫৮]
পবিত্র কোরআনে আরও ইরশাদ হয়েছে
فَأْتِيَاهُ فَقُولَآ إِنَّا رَسُولَا رَبِّكَ فَأَرْسِلْ مَعَنَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ وَلَا تُعَذِّبْهُمْ قَدْ جِئْنَٰكَ بِـَٔايَةٍ مِّن رَّبِّكَ وَٱلسَّلَٰمُ عَلَىٰ مَنِ ٱتَّبَعَ ٱلْهُدَىٰٓ
অর্থঃ অতএব তোমরা তার কাছে যাও এবং বলঃ আমরা উভয়েই তোমার পালনকর্তার প্রেরিত রসূল, অতএব আমাদের সাথে বনী ইসরাঈলকে যেতে দাও এবং তাদেরকে নিপীড়ন করো না। আমরা তোমার পালনকর্তার কাছ থেকে নিদর্শন নিয়ে তোমার কাছে আগমন করেছি। এবং যে সৎপথ অনুসরণ করে, তার প্রতি সালাম।
[সূরা ত্বোয়া-হা,আয়াত নং ৪৭]
★মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন
وَبَيْنَهُمَا حِجَابٌ وَعَلَى ٱلْأَعْرَافِ رِجَالٌ يَعْرِفُونَ كُلًّۢا بِسِيمَىٰهُمْ وَنَادَوْا۟ أَصْحَٰبَ ٱلْجَنَّةِ أَن سَلَٰمٌ عَلَيْكُمْ لَمْ يَدْخُلُوهَا وَهُمْ يَطْمَعُونَ
অর্থঃ উভয়ের মাঝখানে একটি প্রাচীর থাকবে এবং আরাফের উপরে অনেক লোক থাকবে।তারা প্রত্যেককে তার চিহ্ন দ্বারা চিনে নেবে।তারা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবেঃ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।তারা তখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না, কিন্তু প্রবেশ করার ব্যাপারে আগ্রহী হবে।
[সূরা আল আরাফ,আয়াত নং ৪৬]
মহান আল্লাহ পাক আরও ইরশাদ করেন
قل الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى
অর্থ: “হে আঁমার হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আঁপনি বলুন, সমস্ত প্রশংসাই মহান আল্লাহ পাক উনার জন্যে এবং সালাম বা শান্তি বর্ষিত হোক উঁনার মনোনীত বান্দা উনাদের প্রতি।”
[সুরা নমল,আয়াত নং ৫৯]
রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত এক রেওয়ায়েতে আছে, পবিত্র আয়াত শরীফ-এ عباده الذين اصطفى ‘মনোনীত বান্দা’ বলতে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে বোঝানো হয়েছে।
হযরত ইমাম ছুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও এ মতই গ্রহন করেছেন।মূলত, عباده الذين اصطفى এ আয়াতে কারীমা দ্বারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাসহ সমস্ত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে বোঝানো হয়েছে।
[তাফসীরে মাযহারী,তাফসীরে কুরতুবী,ইবনে কাছীর,তাফসীরে কবীর ইত্যাদি]
সূরা নমলের উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বিখ্যাত মুফাস্সির হযরত ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
والارجح فى مثل حضرت لقمان عليه السلام و حضرت مريم عليها السلام و حضرت الـخضر عليه السلام و حضرت الاسكندر عليه السلام الـمختلف فى نبوته ان يقال رضى الله عنه او عنها ولو قال عليه السلام او عليها السلام لا بأس به.
অর্থ: “অতএব, প্রণিধানযোগ্য উদাহরণ হলো: হযরত লুক্বমান আলাইহিস,হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম, হযরত খিযির আলাইহিস সালাম,হযরত সেকেন্দার যুল ক্বরনাইন আলাইহিস সালাম।উনাদের নবী হওয়ার ব্যাপারে ইখতিলাফ থাকার কারণে উনাদের শানে রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অথবা আনহা বলা হয়।আর কেউ যদি উনাদের শানে ‘আলাইহিস সালাম’ অথবা ‘আলাইহাস সালাম’ বলে, এতে কোনই অসুবিধা নেই।”
[তাফসীরে রূহুল বয়ান: ৭ম খন্ড,২২৮ পৃ:]
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফের তাফসীর থেকে স্পষ্ট বুজা যায়,হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উঁনাদের শান মুবারকেও ‘আলাইহিস সালাম’ বা সালামের বিষয় বলা হয়েছে।তাছাড়া উল্লেখিত ব্যক্তিগন উঁনারা কেউই নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম ছিলেন না।বরং উঁনারা প্রত্যেকেই ছিলেন বিশেষ শ্রেণীর ওলীআল্লাহ।এখন উঁনাদের শানে যদি ‘আলাইহিস সালাম’ কিংবা ‘আলাইহাস সালাম’ ব্যবহারে কোন রকম অসুবিধা বা নিষেধ না থাকে তাহলে অন্যান্য বিশেষ শ্রেণীর পুরুষ ওলীআল্লাহ কিংবা মহিলা ওলীআল্লাহ উনাদের শানে অসুবিধা বা নিষেধ হবে কেন?
আমরা প্রতিদিন যে নামাজে তাশাহুদ পাঠ করি,সেখানে এই কথা বলি-
السلام علينا وعلى عباد الله الصالـحين
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উঁনার প্রদত্ব সালাম, রহমত, বরকত আমাদের উপর অর্থাৎ সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপর এবং মহান আল্লাহ পাক উনার যারা ছালিহীন বা নেককার বান্দা উনাদেরও উপর।” ‘আলাইহিস সালাম’ ব্যবহার যদি শুধু হযরত নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য খাছ হতো তবে তাশাহহুদে এই দোয়া থাকলো কেন? এখান থেকেও প্রমাণ হলো ‘আলাইহিস সালাম’ নেককার বান্দাদের বেলায় ব্যবহার করা যায়। সুবহানাল্লাহ।
৩. এবার আপনাদের সামনে নবিজী (ﷺ) এঁর আহলে বাইতের সদস্যদের নামের পাশে কিংবা আল্লাহর ওলীগণের নামের পাশে “আলাইহিসসালাম” ব্যবহার যে বৈধ তার আরও কিছু প্রমাণ তুলে ধরবো:
সহীহ্ বুখারী শরীফ
*(ক.) আহলুস সুন্নাহর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ বা নির্ভরযোগ্য হাদীস গ্রন্থ বুখারী শরীফের ” কিতাবুল ফাজায়েলে সাহাবিহ” অধ্যায়ের (৩৭/৬২ নম্বর অধ্যায়) “বাবুল মানাক্বিবে ফাতিমাতু” শীর্ষক পর্বে (পর্ব নম্বর ৫৯/২৯) হযরত ফাতিমা (রাঃ) এঁর নামের পর “আলাইহিসসালাম” ব্যবহার করা হয়েছে।
*(খ.) একই হাদীস শরীফ গ্রন্থের অর্থাৎ বুখারী শরীফের “বাবুল মানাক্বিবি ক্বুরাবাত্বা রাসুলুল্লাহ ওয়া মানাক্বিবাতি ফাতিমাতা আলাইহিসসালাম বিনতি নাবী” শীর্ষক আলোচনায় (পর্ব নম্বর-৪১/১২) “আলাইহিসসালাম” ব্যবহার করা হয়েছে,যা এই শিরোনামের মধ্যেই লক্ষ্যনীয়।
*(গ.) হাদীস শরীফের অন্যতম কিতাব “সহীহ বুখারী” শরীফে একাধিক স্থানে হযরত আলী (عليه السلام), হযরত ফাতেমুয যাহারা (عليه السلام), হযরত ইমাম হুসাইন (عليه السلام) এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। (عليه السلام) ব্যবহার যদি শিয়া হয় তবে কি ওহাবীরা ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে শিয়া বলবে?
দারু শুয়াব,কাহেরা মিশর থেকে প্রকাশিত বুখারী শরীফে ৪৯৪৭ নম্বর হাদীস শরীফের ইবারতটা নিম্নে দেয়া হলোঃ
حَدَّثَنَا يَحْيَى ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ، عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ عَلِيٍّ – عَلَيْهِ السَّلاَمُ– قَالَ : كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلاَّ وَقَدْ كُتِبَ مَقْعَدُهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَمَقْعَدُهُ مِنَ النَّارِ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ أَفَلاَ نَتَّكِلُ قَالَ : لاََ اعْمَلُوا فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ ثُمَّ قَرَأَ
উক্ত হাদীস শরীফের সনদটা পড়ে দেখুন। হযরত আলী (عليه السلام) লেখা আছে।
*(ঘ.) বুখারী শরীফের باب المرأة تطرح عن المصلي شيئا من الأذى তে ৫২০ নম্বর হাদীস শরীফে হযরত ফাতিমা (عليه السلام) বলা হয়েছে।হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে ,
وَضَعَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ وَثَبَتَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَاجِدًا فَضَحِكُوا حَتَّى مَالَ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ مِنَ الضَّحِكِ فَانْطَلَقَ مُنْطَلِقٌ إِلَى فَاطِمَةَ – عَلَيْهَا السَّلاَمُ – وَهْيَ جُوَيْرِيَةٌ فَأَقْبَلَتْ تَسْعَى
ইবারতটা দেখুন যেখানে হযরত ফাতেমা (عليه السلام) বলা হয়েছে সেখানে আন্ডার লাইন করে দেয়া হয়েছে। দেখা গেলো সহীহ বুখারী শরীফে আহলে বাইতের অন্যতম হযরত যাহরা (عليه السلام) উনার নাম মুবারকের সাথেও “(عليه السلام)” লেখা আছে। শুধু তাই নয় আহলে বাইতের তৃতীয় ইমাম হযরত ইমাম হুসাইন (عليه السلام) উনার নাম মুবারকের সাথেও “(عليه السلام)” লেখা আছে।
*(ঙ.) আরও প্রমাণ দেখুন:
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ ، قَالَ : حَدَّثَنِي حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ ، عَنْ مُحَمَّدٍ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، أُتِيَ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ زِيَادٍ بِرَأْسِ الْحُسَيْنِ – عَلَيْهِ السَّلاَمُ – فَجُعِلَ فِي طَسْتٍ فَجَعَلَ يَنْكُتُ وَقَالَ فِي حُسْنِهِ شَيْئًا فَقَالَ أَنَسٌ كَانَ أَشْبَهَهُمْ بِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ، وَكَانَ مَخْضُوبًا بِالْوَسْمَةِ
দেখুন ইমাম হুসাইন (عليه السلام) উনার নাম মুবারকের সাথে “ (عليه السلام)” লেখা রয়েছে।
বর্তমানে হাদীস শরীফ বা বিভিন্ন কিতাবের ভান্ডর হচ্ছে “মাকতাবায়ে শামেলা” এবং “জামেউল কালিম”। এই দুইটা সপ্টওয়ারে আন্ডারলাইনকৃত অংশ সার্চ করে দেখেন।দেখবেন হুবুহু (عليه السلام) সহ এই হাদীস শরীফ পেয়ে যাবেন।মাকতাবায়ে শামেলাতে বুখারী শরীফের রেফারেন্সে ৯ স্থানে আহলে বাইতের নাম মুবারকের সাথে (عليه السلام) রয়েছে। সুবহানাল্লাহ।
*(চ.) তাওহীদ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বুখারী শরীফের ৩য় খন্ড ৬২৯ পৃষ্ঠা। এখানে একটা বাব রয়েছে , বাবে নাম হচ্ছে “বাবু মানাকিবি কারিবাতি রসূলিল্লাহি (ﷺ) ওয়া মানাক্বাবাতি ফাতিমাতা (عليه السلام) বিনতি নাব্যিয়্যি (ﷺ)”। খুব ভালো করে দেখেন হযরত ফাতিমাতুয যাহরা (عليه السلام) উনার নাম মুবারকের সাথে “(عليه السلام)” লেখা আছে। আর ৩৭১১ নম্বর হাদীস শরীফের চিহিৃত ইবারত লক্ষ্য করেন।
সহীহ্ তিরমিজি শরীফ
*(ক.) একই ধরণের ব্যবহার রয়েছে আরেকটি বিখ্যাত হাদীস শরীফ গ্রন্থ তিরমিজিতে। যেমন: কিতাবুল মানাক্বিবিত তিরমিজি’র “ফাজলি ফাতিমাতা বিনতি মুহাম্মাদ সাল্লিল্লাহু আলাইহিমা ওয়া সাল্লাম” উপপর্বে। (৫০/৬১ নম্বর অধ্যায়,অর্থাৎ কিতাব নম্বর ৫০, বাব নম্বর ৬১) এখানেও শিরোনামের মধ্যেই “সাল্লিল্লাহু আলাইহিমা ওয়া সাল্লাম” শব্দটির ব্যবহার লক্ষ্যনীয়।
*(খ.) একই হাদীস গ্রন্থের “মানাক্বিব আল হাসান ওয়া আল হুসাইন আলাইহিমা ওয়া সাল্লাম” শীর্ষক আলোচনার শিরোনামেই এই শব্দের ব্যবহার লক্ষ্যনীয়।
এটা স্পষ্ট যে বিশিষ্ট সাহাবীদের বর্ণিত এসব হাদীসে হযরত ফাতিমা (رضي الله عنه) এবং হযরত ইমাম হাসান ও হোসাইন (رضي الله عنه) এঁর নামের পর “আলাইহিসসালাম” ব্যবহার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকলে সাহাবীরা তাঁদের বর্ণনায় কখনও এ শব্দ ব্যবহার করতেন না, বরং শুধু “রাজিয়াল্লাহু আনহু” বা এ জাতীয় অন্য কোনো শব্দ ব্যবহার করতেন। “রাজিয়াল্লাহু আনহু” শব্দের অর্থ আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোক।
আহলে বায়তের নামের পরে বা শেষে “(عليه السلام) “আলাইহিস সালাম” এঁর ব্যবহার-২য় পর্ব
ইবনে হাজার মাক্কী
৪. ইবনে হাজার মাক্কীও মনে করেন, কোরআনে বর্ণিত “আলে ইয়াসিন” শব্দের অর্থ আলে মুহাম্মাদ (صلى الله عليه و آله و سلم) বা মুহাম্মাদের বংশধর। ইয়াসিন বিশ্বনবী (صلى الله عليه و آله و سلم) -এঁরই অন্যতম নাম।
নবীজি (صلى الله عليه و آله و سلم) -কে প্রশ্ন করা হয়েছিল কিভাবে আমরা আঁপনার প্রতি দরুদ পাঠাব? উত্তরে তিঁনি বলেছিলেন,তোমরা বলবে ” আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদ ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদ”। সালামের মত দরুদ তথা সালাওয়াত পড়া বা সাল্লি আলা বলাও এক ধরনের দোয়া। এর অর্থ কল্যাণ কামনা করা।
[তথ্য সূত্রঃ সহিহুল বুখারী: ৩য় খণ্ড
সহিহ মুসলিম: ১ম খণ্ড
সুলাইমান বালখী (রহ:) তদীয় ইয়ানাবিউল মাওয়াদ্দা
ইবনে হাজর (রহ:) তদীয় কিতাব সাওয়ায়িকে ক্বাব বিন আযযার বরাতে। ইমাম ফাখরুদ্দীন রাজী (রহ:) তদীয় তাফসীরে কাবীর এর ৬ষ্ঠ খণ্ডে]
এ ব্যপারে আরও কিছু হাদিস পেশ করবো:
ক.) হাদিস শরীফেও ইরশাদ হয়েছে
ﻋَﻦْ ﺯَﻳْﺪِ ﺑْﻦِ ﺧَﺎﺭِﺟَﺔَ ﺭَﺿِﻲ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﻧَﺎ ﺳَﺄَﻟْﺖُ
ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺻَﻠُّﻮْﺍ ﻋَﻠَﻲَّ
ﻭَﺍﺟْﺘَﻬِﺪُﻭْﺍ ﻓِﻲ ﺍﻟﺪُّﻋَﺂﺀِ ﻭَﻗُﻮْﻟُﻮْﺍ : ﺍﻟَّﻠﻬُﻢَّ ﺻَﻞِّ ﻋَﻠَﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ
ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺁﻝِ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ . ( ﺻﺤﻴﺢ ، ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ، ﺻﺤﻴﺢ
ﺳﻨﻦ ﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻰ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻷﻭﻝ ).
“যায়েদ ইবনু খারিজাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিঁনি বললেন:তোমরা আঁমার উপর দরূদ পড় এবং অনেক বেশী চেষ্টা করে দো‘আ’ কর।এভাবে বল:‘আল্লাহুম্মা ছাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন’।
[নাসায়ী,হাদিস: ১২২৫ (সহীহ)]
(খ.) হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে
ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺑْﻦِ ﺃَﺑِﻲ ﻟَﻴْﻠَﻰ ﺭَﺿِﻲ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﻗَﺎﻝَ :
ﻟَﻘِﻴَﻨِﻲ ﻛَﻌْﺐُ ﺑْﻦُ ﻋُﺠْﺮَﺓَ ﺭَﺿِﻲ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻴْﻪُ ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺃَﻻَ
ﺃُﻫْﺪِﻱ ﻟَﻚَ ﻫَﺪِﻳَّﺔً ﺳَﻤِﻌْﺘُﻬﺎ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨّﺒﻰ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ ؟ ﻓَﻘُﻠْﺖُ ﺑَﻠَﻰ ﻓَﺄَﻫْﺪِﻫَﺎ ﻟِﻲ! ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺳَﺄَﻟْﻨَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ
ﺍﻟﻠﻪِ ﻛَﻴْﻒَ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓُ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﺒَﻴْﺖِ ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻗَﺪْ
ﻋَﻠَّﻤَﻨَﺎ ﻛَﻴْﻒَ ﻧُﺴَﻠِّﻢُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ؟ ﻗُﻮﻟُﻮْﺍ : ﺍﻟﻠﻬُﻢَّ ﺻَﻞِّ ﻋَﻠَﻰ
ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺁﻝِ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﻛَﻤَﺎ ﺻَﻠَّﻴْﺖَ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴْﻢَ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺁﻝِ
ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴْﻢَ ﺇِﻧَّﻚَ ﺣَﻤِﻴْﺪٌ ﻣَﺠِﻴْﺪٌ , ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺑَﺎﺭِﻙْ ﻋَﻠَﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ
ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺁﻝِ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﻛَﻤَﺎ ﺑَﺎﺭَﻛْﺖَ ﻋَﻠَﻰ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴْﻢَ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺁﻝِ
ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴْﻢَ ﺇِﻧَّﻚَ ﺣَﻤِﻴْﺪٌ ﻣَﺠِﻴْﺪٌ . ( ﺻﺤﻴﺢ ، ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ
ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ ، ﺑﺎﺏ ﻗﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻭﺍﺗﺨﺬ ﺍﻟﻠﻪ
ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺧﻠﻴﻼ (.
“আব্দুর রহমান ইবনু আবি লায়লা রাহিমাহুল্লাহ বলেন,আমার সাথে কা‘ব ইবনু উজরার সাক্ষাৎ হল,তিনি বললেন: আমি কি সেই হাদিয়াটুকু তোমার কাছে পৌঁছাব না যা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি? আমি বললাম, অবশ্যই আঁপনি আমাকে সেই হাদিয়া দেন।তারপর বললেন: আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম,আপনি এবং আহলে বাইতের উপর কিভাবে সালাত তথা দরূদ পাঠ করব? কেননা আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে আঁপনাকে কিভাবে সালাম জানাব তা বলে দিয়েছেন। তিঁনি বললেন: তোমরা বল:
‘আল্লাহুম্মা ছাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা ছাল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ। ‘আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা কারাকতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ।
[বুখারী, হাদিস: ৩৩৭০]
(গ.) অপর বর্ননায় হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে:
وَعَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ كَعْبِ بن عُجْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا النَّبِيُّ، فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللهِ قَدْ عَلِمْنَا كَيْفَ نُسَلِّمُ عَلَيْكَ، فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ ؟ قَالَ: «قُولُوا: اَللهم صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إبْرَاهِيمَ، إنَّكَ حَمِيدٌ مَجيدٌ . اَللهم بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إبْرَاهِيمَ، إنَّكَ حَمِيدٌ مَجْيدٌ» . متفقٌ عَلَيْهِ
আবূ মুহাম্মদ কা‘ব ইবনে ‘উজরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (একদা) আমাদের নিকট এলে। আমরা বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আঁপনার প্রতি কিভাবে সালাম পেশ করতে হয় তা জেনেছি, কিন্তু আঁপনার প্রতি দরূদ কিভাবে পাঠাব?’ তিনি বললেন, “তোমরা বলোঃ-
‘আল্লা-হুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউ অআলা আ-লি মুহাম্মদ, কামা স্বাল্লাইতা আলা আ-লি ইবরা-হীম। ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউ অআলা আ-লি মুহাম্মদ, কামা বা-রাকতা আলা আ-লি ইবরা-হীম। ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।’
****দলিল****
*(ক.) বুখারী -৩৩৭০,৪৭৯৭,৬৩৫৭,
*(খ.) মুসলিম-৪০৬
*(গ.) তিরমিযী-৪৮৩
*(ঘ.) নাসায়ী,১২৮৭-১২৮৯
*(ঙ.) আবূ দাউদ ৯৭৬
*(চ.) ইবনু মাজাহ ৯০৪
*(ছ.) আহমাদ-১৭৬৩৮,১৭৬৩১, ১৭৬৬৭
*(জ.) দারেমী-১৩৪২
(ঘ.) অপর হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে।
وَعَنْ أَبي مَسعُودٍ البَدرِي رضي الله عنه، قَالَ: أَتَانَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَنَحنُ في مَجْلِسِ سَعدِ بن عُبَادَةَ رضي الله عنه، فَقَالَ لَهُ بَشْيرُ بْنُ سَعدٍ رضي الله عنه : أَمَرَنَا الله تَعَالَى أَنْ نُصَلِّيَ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ، فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ ؟ فَسَكَتَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، حَتَّى تَمَنَّيْنَا أَنَّهُ لَمْ يَسْأَلْهُ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «قُولُوا: اَللهم صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْت عَلَى آلِ إبْرَاهِيمَ، إنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، وَالسَّلاَمُ كَمَا قَدْ عَلِمْتُمْ» . رواه مسلم
আবূ মাসঊদ বদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,আমরা সায়াদ ইবনে উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মজলিসে উপবিষ্ট ছিলাম। এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এলে।বাশীর ইবনে সা‘আদ তাঁকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! মহান আল্লাহ আমাদেরকে আপনার প্রতি দরূদ পড়তে আদেশ করেছেন, কিন্তু কিভাবে আপনার উপর দরূদ পড়ব?’ আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরুত্তর থাকলেন। পরিশেষে আমরা আশা করলাম, যদি (বাশীর) তাঁকে প্রশ্ন না করতেন (তো ভাল হত)। ক্ষণেক পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা বলো,
‘আল্লা-হুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউ অআলা আ-লি মুহাম্মদ, কামা স্বাল্লাইতা আলা আ-লি ইবরা-হীম। অবা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউ অআলা আ-লি মুহাম্মদ, কামা বা-রাকতা আলা আ-লি ইবরা-হীম। ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।’
আর সালাম কেমন,তা তো তোমরা জেনেছ।”
****দলিল****
*(ক.) মুসলিম-৪০৫
*(খ.) তিরমিযী-৩২২০
*(গ.) নাসায়ী ১২৮৫,১২৮৬
*(ঘ.) আবূ দাউদ ৯৭৯
*(ঙ.) আহমাদ ১৬৬১৯,১৬৬২৪, ২১৮৪৭
*(চ.) মুওয়াত্তা মালিক-৩৯৮
*(ছ.) দারেমী ১৩৪৩
(ঙ.) অপর হাদিস শরীফেও ইরশাদ হয়েছে
ﻋَﻦْ ﻣُﻮْﺳَﻰ ﺑْﻦِ ﻃَﻠْﺤَﺔَ ﺭَﺿِﻲ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﻗَﺎﻝ : ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧِﻲ
ﺯَﻳْﺪُ ﺑْﻦُ ﺧَﺎﺭِﺟَﺔَ ﻗَﺎﻝَ : ﻗُﻠْﺖُ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺪْ ﻋَﻠِﻤْﻨَﺎ ﻛَﻴْﻒَ ﻧُﺴَﻠِّﻢُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻓَﻜَﻴْﻒَ ﻧُﺼَﻠِّﻲ
ﻋَﻠَﻴْﻚَ ؟ ﻗَﺎﻝَ ﺻَﻠُّﻮْﺍ ﻋَﻠَﻲَّ ﻭَﻗُﻮْﻟُﻮْﺍ : ﺍﻟَّﻠﻬُﻢَّ ﺑَﺎﺭِﻙْ ﻋَﻠَﻰ
ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺁﻝِ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﻛَﻤَﺎ ﺑَﺎﺭَﻛْﺖَ ﻋَﻠَﻰ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴْﻢَ ﻭَﺁﻝِ
ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴْﻢَ ﺇِﻧَّﻚَ ﺣَﻤِﻴْﺪٌ ﻣَﺠِﻴْﺪٌ . ( ﺻﺤﻴﺢ ، ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺣﻤﺪ ،
ﻓﻀﻞ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﻟﻸﻟﺒﺎﻧﻰ
“মুসা ইবনু ত্বালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,যায়েদ ইবনু খারিজাহ আমাকে বললেন যে,তিনি বলেছেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আঁপনাকে কিভাবে সালাম করব তা আমরা জানি।তবে আঁপনার উপর সালাত তথা দরূদ কিভাবে পাঠ করব? তখন তিঁনি বললেন: তোমরা আঁমার উপর দরূদ পাঠ করতঃ বল: ‘আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ’।
[মুসনাদু আহমদ,হাদিস: ৬৮। (সহীহ)]
আজকের আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে বুজা যায় যে,নবীজি (ﷺ)-এঁর আহলে বাইতের সদস্যদের নামের পরে বা তাঁদের নামের পাশে “আলাইহিসসালাম” বা “সালাওয়াতুল্লাহ আলাইহি” বা “আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম” বলা একটি ধর্মীয় নির্দেশ এবং রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর সুন্নাত।
আহলে বায়তের নামের পরে বা শেষে “(عليه السلام) “আলাইহিস সালাম” এর ব্যবহার-৩য় পর্ব
ইমাম ফাখরুদ্দিন রাজি (রহ:)
★৫. ইমাম ফাখরুদ্দিন রাজিও নবীজি (صلى الله عليه و آله و سلم) -এঁর আহলে বাইতের সদস্যদের নামের পর “আলাইহিসসালাম” দোয়াটি ব্যবহার করেছেন।
তিনি বলেছেন,রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর আহলে বাইত (عليه السلام) এঁর ক্ষেত্রেও রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم)-এঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মত সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।সালাম এসবের মধ্যে অন্যতম।মহান আল্লাহ কোরআনে বিশ্বনবী (صلى الله عليه و آله و سلم) ও তাঁর পবিত্র বংশধরদের প্রতি সালাম দিয়েছেন “আলে ইয়াসিনের ওপর সালাম” শব্দের মাধ্যমে।
৬. হাদীস শরীফের অন্যতম নির্ভযোগ্য কিতাব ‘সুনানে দারু কুতনীর” ৯ জায়গায় হযরত আবু বকর সিদ্দীক (عليه السلام) ও ৩৪ স্থানে হযরত উমর (عليه السلام) লেখা আছে। সকলে জানার জন্য কয়েকটা ইবারত উল্লেখ করা হলো-
30 – حدثنا أبو بكر ، أحمد بن محمد بن إسماعيل الآدمي قال : نا محمد بن الحسين الحنيني ، قال : نا عبد العزيز بن محمد الأزدي ، قال : نا حفص بن غياث ، قال : سمعت جعفر بن محمد ، يقول : ما أرجو من شفاعة علي عليه السلام شيئا ، إلا وأنا أرجو من شفاعة أبي بكر عليه السلام مثله ، ولقد ولدني مرتين
উক্ত কিতাবের ফাদ্বায়িলুছ ছাহাবা অধ্যায়ে এ্ই হাদীস শরীফ পাবেন যেখানে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (عليه السلام) লেখা আছে। যা আপনারা মাকতাবায়ে শামেলাতেও পাবেন।
৭. “দারু কুতনী কিতাবের ফাদ্বায়িলুছ ছাহাবা অধ্যায়ে” হযরত উমর (عليه السلام) উনার নাম মুবারকের সাথে “ (عليه السلام)” লেখা আছে। নিম্নে ইবারত ও সনদ দেয়া হলো:
3 – حدثنا محمد بن منصور بن أبي الجهم ، نا السري بن عاصم ، قال : نا أبو معاوية ، عن الحجاج بن أرطأة ، عن من ، أحبوه ، عن الشعبي ، قال : قال علي عليه السلام : لم أكن لأحل عقدة عقدها عمر عليه السلام
দেখুন মাকতাবেয়া শামেলাতে দারু কুতনীতে হযরত উমর (عليه السلام) উনার নামে সাথে “ (عليه السلام)”লিখে অনুসন্ধান করলে কতগুলো রেজাল্ট আসে।
★৮. জামিউল কালিম ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বলঃ হাদীস শরী্ফের অন্যতম সপ্টওয়ার জামিউল কালিমে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবুয যুহদ এর দলীল আছে। উক্ত কিতাবে একটা অধ্যায় আছে যার নাম হচ্ছে زُهْدُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ عَلَيْهِ السَّلامُ
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে (عليه السلام)
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহতুল্লাহি আলাইহি রচিত “ফাদ্বায়েলুছ ছাহাবা” কিতাবে হযরত আলি (عليه السلام) লেখা আছে।
৯. মুফতী শফীর মা’রেফুল কুরআনে: দেওবন্দীদের অন্যতম মুরুব্বী মুফতী শফীর মা’রেফুল কুরআনে’ নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম সালাম ছাড়া অন্যদের বেলায় (عليه السلام) বলা বৈধতা প্রমাণ হয় বলে উল্লেখ আছে।
[মারেফুল কুরআন ৬ষ্ঠ খন্ড ৬৫৫ পৃষ্ঠাতে, প্রকাশনা- ইসলামী ফাউন্ডেশন]
লক্ষ্য করুন: হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ও হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের নাম মুবারক উনার সাথে “আলাইহিস সালাম” লিখলে সালাফী ও খারেজীরা বিভিন্ন চু-চেরা করে থাকে।তারা অভিযোগ করে থাকে ‘আলাইহিস সালাম’ লেখা নাকি শুধুমাত্র হযরত নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য খাছ!!
অন্য কারো ক্ষেত্রে ‘আলাইহিস সালাম’ ব্যবহার করা যাবে না।(নাউযুবিল্লাহ) এমনকি পবিত্র নাম মুবারক উনার সাথে ‘আলাইহিস সালাম’ লেখার কারণে অনেক শিয়া বলেও অপবাদ দেয়ার মতো ধৃষ্টতা দেখায়।(নাউযুবিল্লাহ) অথচ ‘আলাইহিস সালাম’ লেখা শিয়াদের বৈশিষ্ট নয় বরং আলাইহিস সালাম লেখা পবিত্র কুরআন শরীফ,পবিত্র হাদীস শরীফ এবং ইমাম ও মুহাদ্দিছ উনাদের বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত।
爛“ছহীহ বুখারী” শরীফে একাধিক স্থানে হযরত আলী আলাইহিস সালাম,হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম,হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।‘আলাইহিস সালাম’ ব্যবহার যদি শিয়া হয় তবে কি হযরত ইমাম বুখারী (রহ:) শিয়া? (নাউযুবিল্লাহ!)
爛একই শব্দ ব্যবহারের কারনে ইমাম তিরমিজি,ইমাম আহমদ বিন হাম্বল,ইমাম ফাখরুদ্দিন রাজি,ইবনে হাজার মাক্কী তারাও কি শিয়া? (নাউযুবিল্লাহ!)
‘মাকতাবায়ে শামেলা’ ও ‘জামিউল কালিম’ কি শিয়াদের বানানো?
তাফসীরে মারেফুল কুরআন কি শিয়াদের বানানো?
爛বুখারী শরীফ,তিরমিজি শরীফ,সুনানে দারু কুতনী, কিতাবুয যুহুদসহ অসংখ্য স্থানে যেখানে ‘আলাইহিস সালাম’ বলা আছে।এগুলো কি শিয়াদের বানানো?
যদি এই লেখাগুলো শিয়াদের হতো,তবে শিয়ারা কি সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আযম আলাইহিস সালাম উনাদের নাম মুবারকের সাথে ‘আলাইহিস সালাম’ লিখতো? শিয়ারাতো উঁনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে। (নাউযুবিল্লাহ!)
সুতরাং এটা স্পষ্ট নবীজি (صلى الله عليه و آله و سلم) -এঁর আহলে বাইতের সদস্যদের নামের পরে বা তাঁদের নামের পাশে “আলাইহিসসালাম” বা “সালাওয়াতুল্লাহ আলাইহি” বা “আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম” বলা একটি ধর্মীয় নির্দেশ এবং রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর সুন্নাত।
তাছাড়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাদের নাম মুবারকের সাথে আলাইহিস সালাম থাকাই প্রমাণ করে ইমাম মুজতাহিদগণ হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের নাম মুবারকের সাথে ‘আলাইহিস সালাম’ লিখতেন ও বলতেন।
এতগুলো দলিল থাকার পরও যদি কেউ আপত্তির করে? তাহলে এটা নিশ্চয়ই আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি ইয়াযীদের মতো বিদ্বেষ পোষণ নামান্তর।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।