নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ২০ জুলাই ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্ত সুরক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মিয়ানমার সীমান্তে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১০৮ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের আশরাফ হলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও দরবার শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্ত এলাকায় ল্যান্ডমাইন বা বর্ডার মাইনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজিবিকে ইতোমধ্যে অত্যাধুনিক মাইন শনাক্তকরণ (ডিটেকশন) যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা আরও জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের মূল বিচার তৎকালীন সময়ে সামরিক আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল এবং সেখানে সুস্পষ্ট রায় ও সিদ্ধান্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ছদ্মনামে পার্শ্ববর্তী দেশে আত্মগোপনে থাকা মেজর মোজাফফরকে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাকে বর্তমান সেনা আইন অনুযায়ী সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, জেনারেল কোর্ট মার্শাল (General Court Martial) গঠনের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী বিচার সম্পন্ন হবে। একই অপরাধে কোনো ব্যক্তিকে সিভিল আইন ও সামরিক আইন—দুই পৃথক আইনে বিচার করার সুযোগ নেই। তাই এই মামলার বিচার সেনা আইনেই সম্পন্ন হবে।
মিয়ানমার সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশটির সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মি, আরএসও এবং আরসাসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তার ওপরও পড়ছে।
তিনি বলেন, ওপার থেকে ছিটকে আসা গোলাগুলি, অস্ত্র ও মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সরকার সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। ভারতের সীমান্ত ব্যবস্থাপনার তুলনায় মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই এই সীমান্তকে আরও নিরাপদ ও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত করা এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশ-ইনের অভিযোগ নাকচ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কাউকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও সীমান্ত এলাকার জনগণের সম্মিলিত সতর্কতায় প্রতিটি পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালানো হতে পারে। তবে বাংলাদেশ এ ধরনের বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় কোনো বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকের তালিকা পাঠানো হয়, তাহলে তাদের জাতীয়তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইন বাংলাদেশ মেনে নেবে না।
বিজিবির জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম সংগ্রহ, নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ এবং বিজিবি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বাহিনীর বিভিন্ন দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয় দ্রুত সমাধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

