চট্টগ্রাম বিশেষ প্রতিনিধি; আহমদ রেজা
পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠীর জন্য আয়কর অব্যাহতি, মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা, সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত এবং পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস দমনের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় শহীদ হাদী চত্বরে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে বক্তারা পার্বত্য অঞ্চলে সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রীয় নীতির দাবি জানান।
সমাবেশে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মো. মোস্তফা আল ইহযাযের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) খন্দকার ফরিদুল আকবর, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ লিগ্যাল এইডের সভাপতি অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, শ্রমিক নেতা বজলুর রহমান বাবলু, ছাত্রনেতা মিজানুর রহমান, স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টির আহ্বায়ক জিয়া উল হক, সাহিদুল ইসলাম, কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম, প্রভাষক নারগিস জুই, যুব নেতা সেলিম রেজা বাচ্চু, শাহপরান সাইম, রোজিনা আক্তার ও তারেক রহমান শাওনসহ অনেকে।
বক্তারা দাবি করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত বাঙালিদেরও আয়কর অব্যাহতির আওতায় আনা উচিত। তাদের ভাষ্য, একই অঞ্চলে বসবাস করেও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান কর সুবিধা থেকে বাঙালিরা বঞ্চিত হওয়ায় অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।
প্রধান সমন্বয়ক মোস্তফা আল ইহযায বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বাঙালি জনগোষ্ঠী চাকরি, উচ্চশিক্ষা, উন্নয়ন প্রকল্প এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অংশীদারিত্ব পাচ্ছে না। তিনি জেলা পরিষদের অধীন চাকরিতে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পার্বত্য বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক কোটা চালুর দাবি জানান।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন তার বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, ‘আদিবাসী’ পরিচয় এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন। তিনি দেশের অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা শহীদ হাদী চত্বর থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

