মোঃ শরিফ হোসেন, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লার চান্দিনায় দোকানের বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক মুদি দোকানদার ও তার ছোট ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় দোকান থেকে নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নেওয়ারও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনাটি ঘটেছে চান্দিনা উপজেলার ৮ নম্বর বরকট ইউনিয়নের খিরাসা এলাকার মোহনপুর গ্রামে। আহতরা হলেন মুদি দোকানদার মোঃ সোহেল ও তার ছোট ভাই সোহাগ।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য কয়েকজনের কাছে টাকা চাইলে বিষয়টি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত নাজমুল, আজাদ, কামাল, আনিস ও আশিক ধারালো দা নিয়ে সোহেলের দোকানে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সোহেল তার আট শাটারের মুদি দোকানের ক্যাশে বসে থাকা অবস্থায় হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়। এতে তার বাম হাতের তালুতে গুরুতর জখম হয়। এ সময় ছোট ভাই সোহাগ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত দুই ভাইকে প্রথমে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসা শেষে সোহেলের বাম হাতের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে এবং তার ভাই সোহাগকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
এদিকে, হামলার পাশাপাশি দোকান থেকে নগদ প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নেওয়ার অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। তবে লুটের অভিযোগ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ঘটনার পর এ বিষয়ে চান্দিনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে দোকান থেকে টাকা ও মালামাল লুটের অভিযোগও তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে তারা।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত তদন্ত করে হামলার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং লুটের অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন করবে।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

