ঢাকাSunday , 2 August 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলামিক
  7. কবিতা
  8. কলাম
  9. কুমিল্লা জেলার খবর
  10. খেলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা খবর
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. দৈনিক জনতার মতামত পরিবার
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপির শীর্ষ নেতার ‘ছত্রছায়ায়’ যুবলীগ নেতা মাকসুদের কোটি টাকার সাম্রাজ্য: অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য

News Admin
August 2, 2026 8:11 am
Link Copied!

৯৭

​বিশেষ প্রতিবেদক: রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষ হলেও আর্থিক স্বার্থের জায়গায় তারা যেন একবৃত্তে বাঁধা দুই বিন্দু। প্রকাশ্যে রাজনৈতিক আদর্শের লড়াই আর সস্তা স্লোগান থাকলেও নেপথ্যে চলছে কোটি কোটি টাকার যৌথ বাণিজ্য। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৭ বছর ক্ষমতার মেয়াদজুড়ে এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দোলাচলেও প্রভাব বিন্দুমাত্র কমেনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদুর রহমান মাকসুদের।

আর এই বিশাল বিত্ত-বৈভব ও ব্যবসার নেপথ্য ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক শীর্ষ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন হলেও যুবলীগ নেতা মাকসুদ এবং যুবদলের ওই কেন্দ্রীয় নেতার—উভয়েরই জন্ম ও বেড়ে ওঠা ভোলার একই অঞ্চলে। এলাকার এই আঞ্চলিক টান ও দীর্ঘদিনের গোপন সমঝোতাকে কাজে লাগিয়ে ঢাকার বুকে গড়ে উঠেছে এক বিশাল বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট। আওয়ামী লীগ আমলে মাকসুদের একক আধিপত্যে যে ব্যবসা ডালপালা মেলেছিল, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বিরোধী রাজনৈতিক ওই শীর্ষ নেতার ‘ছত্রছায়ায়’ তা আরও সুরক্ষিত ও সম্প্রসারিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

​স্বার্থের সমীকরণ ও ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য
​রাজধানীর পরিবহন খাত, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, আবাসন ও জমি দখল থেকে শুরু করে ড্রেজিং ব্যবস্থার বিশাল বাজারে মাকসুদুর রহমান মাকসুদের নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে মিলছে চমকপ্রদ তথ্য—স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর যেখানে অন্য আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতারা আত্মগোপনে বা পলাতক, সেখানে মাকসুদের ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে প্রায় নির্বিঘ্নে। এর নেপথ্যে মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রপর্যায়ের প্রভাবশালী ওই নেতা।

​অভিযোগ রয়েছে, ভোলা অঞ্চলের ওই প্রভাবশালী বিএনপি নেতার সঙ্গে সম্পর্কের জের ধরে মাকসুদ নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানায় দৃশ্যমান ও অদৃশ্য রদবদল এনেছেন। মাকসুদের প্রতিষ্ঠানে যুবদলের ওই নেতার ঘনিষ্ঠদের অংশীদার করা অথবা লভ্যাংশের বড় একটি অংশ নির্দিষ্ট চ্যানেলে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে বহাল তবিয়তে রক্ষা করা হচ্ছে এই ‘অবৈধ সাম্রাজ্য’।

​তৃণমূল থেকে কেন্দ্র: ক্ষোভের আগুন
​বিএনপির নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের ফসল হিসেবে যখন দল ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তখন কেন্দ্র থেকে শুরু করে ভোলার তৃণমূল বিএনপিতে এই ‘অশুভ আঁতাত’ নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের মতে, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে যারা রাজপথে রক্ত দিল, জেল খাটল, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হলো না; অথচ যুবলীগের চিহ্নিত এক ক্যাডার বিএনপির কেন্দ্রীয় এক অভিভাবকসুলভ নেতার সেলফেল্টারে নিজের কোটি টাকার ব্যবসা নিরাপদে চালিয়ে যাচ্ছেন।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবদলের একাধিক রাজপথের নেতা জানান, “দল যখন পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন কতিপয় শীর্ষ নেতার ব্যবসায়িক স্বার্থের কাছে রাজপথের ত্যাগী কর্মীরা জিম্মি হয়ে পড়ছেন। ভোলার আঞ্চলিক পরিচয়ের দোহাই দিয়ে যুবলীগ নেতার কালো টাকা সাদা করার ও ব্যবসা পাহারা দেওয়ার এই নীতি দলের জন্য এক বড় ধরনের কলঙ্ক।

​প্রশাসনের নীরবতা ও আইনি প্রশ্ন জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নামে নানা অপরাধমূলক মামলা ও তদন্ত হলেও মাকসুদের মতো প্রভাবশালী নেতাদের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক কীভাবে বহাল থাকে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। বিরোধী দলের ওই প্রভাবশালী নেতার ‘ছত্রছায়া’ থাকার কারণে প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তার কোটি টাকার ব্যবসার উৎসে হাত দিতে সংকোচবোধ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

​রাজনীতি ও ব্যবসার এই অনৈতিক সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলা না গেলে ত্যাগী কর্মীদের রক্ত আর ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা গণ-আকাঙ্ক্ষা ধুলিসাৎ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভোলার বাসিন্দা হওয়ার অজুহাতে আদর্শ বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার এই ‘যৌথ কারবার’ বন্ধে বিএনপির নীতি নির্ধারক মহলের কঠোর হস্তক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে ভোলার সাধারণ মানুষ ও সারাদেশের রাজনৈতিক মহল।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।