ফটিকছড়ি প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে হযরত গাউছুল ওয়ারা, শায়খুল ইসলাম শাহসুফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর ১৫তম বার্ষিক পবিত্র ওরশ শরীফের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) দুই দিনব্যাপী এ ওরশ শরীফের সমাপনী দিবস অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে বিশেষ নসিহত, জিকির-আযকার, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী দিনের শেষপর্বে আখেরি মুনাজাতের মাধ্যমে ওরশ শরীফের কর্মসূচি শেষ হয়।
সমাপনী দিবসের প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত শাহসুফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী বলেন, মানবপ্রেম, আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের আদর্শে হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.)-এর জীবন ও কর্ম ছিল নিবেদিত।
তিনি বলেন, হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.) মানুষের আত্মিক উন্নতি ও চরিত্র গঠনের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে জীবনব্যাপী কাজ করেছেন। তাঁর জীবনদর্শনের কেন্দ্রে ছিল আল্লাহ ও রাসুলপ্রেম, আত্মশুদ্ধি এবং সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা।
শাহসুফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, মানুষের মধ্যে বিভেদ নয়, ভালোবাসা সৃষ্টি করা, বিদ্বেষ নয়, সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা এবং আত্মকেন্দ্রিকতার পরিবর্তে মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করাই ছিল হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.)-এর জীবনাদর্শের অন্যতম প্রধান শিক্ষা।
দেশের ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ধর্মীয় উগ্রবাদী বা বিভাজনকামী কোনো গোষ্ঠীর প্ররোচনা কিংবা ফাঁদে পা না দিয়ে দেশের সব পক্ষের ওলামা-মাশায়েখ, ধর্মীয় চিন্তাবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন মত ও ধারার ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ভুল বোঝাবুঝি ও বিভাজনের সুযোগ কমবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও পরামর্শের সংস্কৃতি জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় করতে পারে।
সমাপনী দিনের প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান থেকে আগত আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলার আল্লামা ড. মুহাম্মদ কাওকাব নূরানী ওকাড়ভী (মু.জি.না.)। বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ হাসান রেজা আল-কাদেরী, মাওলানা মুফতি বাকিবিল্লাহ আজহারী, মাওলানা ফখরুদ্দীন চাঁদপুরী, মাওলানা সৈয়দ আহমদুল হক মাইজভাণ্ডারীসহ বহু ওলামায়ে কেরাম।
আলোচকরা হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.)-এর জীবন, সাধনা, আধ্যাত্মিক দর্শন, মানবপ্রেম, নৈতিকতা ও সমাজকল্যাণমূলক আদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, আত্মশুদ্ধির সঙ্গে মানবসেবা, মানবপ্রেম, নৈতিকতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সমন্বয় ছিল তাঁর জীবনদর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ওরশ শরীফে দরবারের খলিফাবৃন্দ, বরেণ্য ওলামা-মাশায়েখ, ভক্ত-আশেকান, মুরিদান এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রধান অতিথি হযরত শাহসুফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন। মুনাজাতে হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.)-এর ফয়েজ ও বরকত, মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও ঐক্য, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং বিশ্বমানবতার শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

