ঢাকাSaturday , 15 August 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলামিক
  7. কবিতা
  8. কলাম
  9. কুমিল্লা জেলার খবর
  10. খেলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা খবর
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. দৈনিক জনতার মতামত পরিবার
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবসময় একজন খলনায়ক লাগবেই?—রাব্বি তানজিদ

News Admin
August 15, 2026 6:51 am
Link Copied!

৬২

নিউজ ডেস্ক

আমি বাঙালি হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করি। আর আমার কাছে জাতীয়তাবাদ মানে সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ। জাতীয়তাবাদ মানে এই ভূখণ্ডের মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি, আত্মপরিচয়, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, আত্মত্যাগ এবং সার্বভৌম অস্তিত্বকে ধারণ করা। আর আমাদের এই সার্বভৌমত্বের প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় স্বার্থের রক্ষায় যারাই নেতৃত্ব দিয়েছেন আপসহীনভাবে—তারা সকলেই বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার জন্যই অবদান রেখেছেন, আত্মত্যাগ করেছেন।
এই অর্থে শেখ মুজিবুর রহমান যেমন রাজনৈতিকভাবে বাঙালির জাতীয় অধিকার ও আত্মপরিচয়ের সংগ্রামের অন্যতম প্রধান নেতা, তেমনি তাঁর আগে ও পরে এই জাতীয় চেতনা নির্মাণে অবদান রাখা এবং একই সঙ্গে স্বাধীনতার পরবর্তী বাংলাদেশের ১৯৭৫-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে দেশের অস্থিরতা মোকাবেলায় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা, গণতন্ত্রে আপসহীন ভূমিকা রাখার কারণে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ অসংখ্য নেতাকেও আমাদের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখতে হবে।
আবার ১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পরে আমৃত্যু দেশের গণতন্ত্রের লাগাম ধরে রাখায় প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশের জনগণ ও গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য যে আপসহীন ভূমিকা, তা ইতিহাসে মর্যাদাপূর্ণ এবং সর্বজনীন শ্রদ্ধাশীল করে রাখতে হবে। এর জন্য আমাদের জাতীয় এই নেতৃত্বদের উন্মুক্ত করে দেওয়ার সংস্কৃতির প্রচলন শুরু করা উচিত।
১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর নির্বাচন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—কোনোটিই কোনো একদিনে, কোনো একজনের হাতে কিংবা কোনো একটি দলের একক প্রচেষ্টায় সৃষ্টি হয়নি। এটি ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, নেতৃত্ব, সংগঠন এবং একটি জাতির সম্মিলিত আত্মত্যাগের পরিণতি।
এই ইতিহাসে শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান —প্রত্যেকেই নিজ নিজ সময়ে বাঙালির অধিকার ও আত্মপরিচয়ের সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
স্বাধীনতার চূড়ান্ত পর্বে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠনে জাতীয় চার নেতা—সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামান —এর অবদানও আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আর রণাঙ্গনে বঙ্গবীর জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী, সেক্টর কমান্ডারগণ এবং অসংখ্য বীর মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগ; তাঁদের মধ্যে বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, রণাঙ্গনের নেতৃত্ব ও সামরিক ভূমিকা—মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
কাউকে স্মরণ করতে গিয়ে অন্য কাউকে মুছে ফেলতে হবে কেন? ইতিহাস কোনো প্রতিযোগিতা নয়, জাতীয় ইতিহাস একক গোষ্ঠীর নয়, সমগ্র জাতির।
বঙ্গবন্ধুর অবদান স্বীকার করতে জিয়াউর রহমানকে ছোট করার প্রয়োজন নেই। আবার জিয়াউর রহমানের ভূমিকা স্বীকার করতে বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করারও কোনো প্রয়োজন নেই। তাজউদ্দীনকে সম্মান করতে গিয়ে জাতীয় চার নেতার অন্য সদস্যদের ভুলে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সম্মান করতে গিয়ে সামরিক নেতৃত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অস্বীকার করারও প্রয়োজন নেই।
কারণ তাঁরা কোনো একটি দলের একক সম্পদ নন— তাঁরা বাংলাদেশের ইতিহাসের সম্পদ।
দুঃখজনকভাবে আমরা দীর্ঘদিন জাতীয় নেতাদের দলীয় পরিচয়ের দেয়ালের মধ্যে বন্দি করেছি। একজনকে নিজের করে নিতে গিয়ে অন্যজনকে পর করে দিয়েছি। ফলে যে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তির ওপর আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম দাঁড়িয়েছিল, সেই ঐক্যই পরবর্তীকালে রাজনৈতিক বিভাজনের শিকার হয়েছে।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আপসহীন নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁকে কেবল একটি দলের নেত্রী হিসেবে দেখলে তাঁর রাজনৈতিক সময় ও ভূমিকার বৃহত্তর তাৎপর্যও সংকুচিত হয়ে যায়।
এখানেও একই কথা প্রযোজ্য—কোনো নেতার অবদান স্বীকার করা মানে তাঁর সব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা দর্শনের সঙ্গে একমত হওয়া নয়। ইতিহাসের প্রতি ন্যায়বিচার হলো— যার যে অবদান, তাকে সেই জায়গায় স্বীকার করা।
আজ জুলাই-আগস্টের মাধ্যমে আমাদের জাতীয় নেতা এবং জাতীয় ইতিহাস নির্দিষ্ট দলের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হয়েছে—জুলাই-আগস্টের প্রথম সংস্কারই এটা।
তাই আমরা আবারও পুরোনো বিভাজনের রাজনীতিতে ফিরে না গিয়ে, বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল চেতনাকে সামনে রেখে জাতীয় ইতিহাসকে সর্বদলীয় বিবেচনায় সর্বস্তরের জনগণের মাঝে শ্রদ্ধাশীল করে তুলব।
আমাদের মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, রাজনৈতিক দল ভিন্ন হতে পারে, নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কও থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
আর সেই জায়গা থেকেই আজকের ১৫ আগস্টকে আমরা একটি মানবিক ও জাতীয় দৃষ্টিতে দেখতে পারি—একই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী এবং আপসহীন নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী। দুটি ঘটনাই আমাদের কাছে গভীর শ্রদ্ধাশীল এবং স্মরণীয়।
একজন বাঙালি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর জন্য শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ ও শোক প্রকাশ করা যেমন স্বাভাবিক, তেমনি আজ প্রয়াত নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা ততটাই স্বাভাবিক।
জন্ম ও মৃত্যু কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়।
আজ একজনের জন্মবার্ষিকী, অন্যজনের মৃত্যুবার্ষিকী। দুজনই এখন আমাদের মাঝে শারীরিকভাবে অনুপস্থিত। কিন্তু তাঁদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, তাঁদের অবদান এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁদের অবস্থান আমাদের আলোচনার অংশ হয়েই থাকবে।
আমরা তাঁদের রাজনৈতিক দর্শন, সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করতেই পারি। কিন্তু একজনকে স্মরণ করতে গিয়ে অন্যজনকে অস্বীকার করা, একজনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে অন্যজনের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো—এমন সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা উচিত।
বরং আজকের দিনটি হোক শোক, স্মরণ, দোয়া এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার একটি দিন।
হয়তো জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনাও এমন জায়গা থেকেই হতে পারে—
কাউকে মুছে দিয়ে কাউকে প্রতিষ্ঠা নয়;যার যে অবদান, তাকে তার প্রাপ্য জায়গায় রেখে বাংলাদেশের ইতিহাসকে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করা।
কারণ—
বাঙালি জাতীয়তাবাদ মানেই বাংলাদেশ, আর এই বাংলাদেশের ইতিহাস, বাংলাদেশের নেতৃত্বদানকারী জাতীয় নেতাদের শ্রদ্ধার জায়গা সর্বদলীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলে জাতীয় বিভাজন দূর হবে, জাতীয় স্বার্থে ঐক্য অটুট হবে, দেশ এগিয়ে যাবে।
আর বাংলাদেশ—আমাদের সবার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়াও আমাদের সবার। আজকের এই দিনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দুই অনন্য নেতৃত্বকে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও প্রার্থনায় স্মরণ করছি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।