মোঃ শাহজাহান বাশার
ঢাকা, ২৪ আগস্ট ২০২৬: রোহিঙ্গা সংকট শুধু মানবিক সমস্যা নয়, এটি বাংলাদেশের মানবিক নিরাপত্তা, জাতীয় নিরাপত্তা, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, পিএসসি, জিআই।
রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ আয়োজিত ‘Challenges of Rohingya Repatriation: International Politics and National Priorities’ শীর্ষক সেমিনারে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, কোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়াই নেওয়া এই দায়িত্ব গত নয় বছরে বাংলাদেশের জন্য ক্রমবর্ধমান বোঝায় পরিণত হয়েছে। কক্সবাজার ও ভাসানচরের ৩৩টি ক্যাম্পে বসবাসরত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার নিরাপত্তা পরিস্থিতিও দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ক্যাম্পগুলোতে ছয় থেকে ১১টি পর্যন্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তার তথ্য রয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ২০০টির বেশি মামলা হয়েছে। পাশাপাশি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ড. শামসুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে এবং নব্বইয়ের দশকের শুরুতে রোহিঙ্গাদের আগমনসহ বিভিন্ন সময়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি হয়েছিল। ২০১৭ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ও কূটনৈতিক উদ্যোগের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, ধৈর্য ও কৌশলগত দৃঢ়তার সঙ্গে পরিচালিত কূটনীতি ফল দিতে পারে।
বর্তমান সরকারের রোহিঙ্গা নীতি তুলে ধরে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ছয়টি কৌশলগত পদক্ষেপের সমন্বয়ে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় এগিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘ, এশীয় দেশসমূহের সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম, ওআইসি, চীন ও ভারতের মাধ্যমে সংকটটির আন্তর্জাতিকীকরণ; চীন ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা; মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ; ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা জোরদার; পূর্ব সীমান্তে বিশ্বাসযোগ্য সন্ত্রাসবিরোধী সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং আঞ্চলিক কাঠামো তৈরিতে নেতৃত্ব দেওয়া।
সেমিনারে তিনি মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৫ আগস্ট ২০২৬-এর ঘোষণাকে রোহিঙ্গাদের প্রকৃত প্রত্যাবাসনের আন্তরিক উদ্যোগ হিসেবে না দেখে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান গণহত্যা মামলার প্রেক্ষাপটে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করেন।
সমাপনী বক্তব্যে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের একমাত্র পথ হলো নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। মানবিক বিবেচনা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার এ সংকট মোকাবিলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

