ঢাকাMonday , 24 August 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলামিক
  7. কবিতা
  8. কলাম
  9. কুমিল্লা জেলার খবর
  10. খেলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা খবর
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. দৈনিক জনতার মতামত পরিবার
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য বড় জাতীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

News Admin
August 24, 2026 4:48 pm
Link Copied!

৬৫

 

হুমায়ুন কবির | বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা


রোহিঙ্গা সংকটকে নিছক কোনো মানবিক সমস্যা হিসেবে না দেখে এটিকে মানব নিরাপত্তা, জাতীয় নিরাপত্তা, কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ক্রমবর্ধমান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি।

রবিবার (২৩ আগস্ট ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধীন সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ আয়োজিত “Challenges of Rohingya Repatriation: International Politics and National Priorities” শীর্ষক সেমিনারে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। সেমিনারে অনুষ্ঠানটির সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বিগত নয় বছর ধরে পরিকল্পনাহীনভাবে বহন করা এই বিশাল দায় এখন বাংলাদেশের জন্য এক মারাত্মক বোঝায় পরিণত হয়েছে। কক্সবাজার ও ভাসানচরের ৩৩টি ক্যাম্পে অবস্থান প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সেখানে বর্তমানে ৬ থেকে ১১টি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে এবং ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাচার অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত এই সংক্রান্ত দুই হাজারের বেশি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ক্যাম্পগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের প্রতি এই সংগঠনের মনোভাব মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চেয়েও বেশি কঠোর বলে তিনি সতর্ক করেন।

অতীতের সফল কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৮ সালে এবং বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে রোহিঙ্গা সংকট সফল কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সমাধান হয়েছিল। এটি প্রমাণ করে যে, ধৈর্য এবং কৌশলগত দৃঢ়তার সঙ্গে পরিচালিত কূটনীতি কার্যকর ফল বয়ে আনতে পারে।

বর্তমান সরকারের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতির ভিত্তিতে মানবিক দায়বদ্ধতা, জাতীয় স্বার্থ এবং নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার সমন্বয়ে এই সংকট মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে।

এ সময় তিনি সরকারের ছয়টি সুনির্দিষ্ট কৌশলগত পদক্ষেপ তুলে ধরেন:—

★আন্তর্জাতিকীকরণ:- জাতিসংঘ, আসিয়ান, ওআইসি, চীন ও ভারতসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের মাধ্যমে বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালো করা।

★কৌশলগত ভারসাম্য:- চীন ও ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করা।

★দ্বৈত-পর্যায়ের সম্পৃক্ততা:- মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষের সঙ্গেই দ্বৈত পর্যায়ে যোগাযোগ বজায় রাখা।

★নিরাপত্তা জোরদারকরণ:– ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ও বাইরে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা।

★প্রতিরোধ ক্ষমতা:– পূর্ব সীমান্তে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা।

★আঞ্চলিক কাঠামো:– আসিয়ান ও ওআইসিকে সম্পৃক্ত করে একটি কার্যকর আঞ্চলিক কাঠামো গঠনে নেতৃত্ব প্রদান।

গত ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনযোগ্য হিসেবে যাচাইয়ের ঘোষণাকে প্রকৃত আন্তরিকতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক চাপ প্রশমন এবং আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান গণহত্যা মামলা মোকাবিলার একটি কৌশলগত চাল বলে অভিহিত করেন তিনি।

বক্তব্যের সমাপনীতে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান। সরকার “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতি অনুসরণ করে বিচক্ষণতা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা-সচেতনতা নিয়ে এই জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।