নিউজ ডেস্ক
ডায়াবেটিসে শরীরের ক্ষত সহজে শুকাতে চায় না—এ কথা চিকিৎসাবিজ্ঞানে যেমন পরিচিত, তেমনি সাধারণ মানুষের কাছেও বিষয়টি সুপরিচিত। তবে মানুষের হৃদয়েও কি এমন কোনো অদৃশ্য ‘ডায়াবেটিস’ থাকে, যার ক্ষত চোখে দেখা যায় না, অথচ দীর্ঘদিন ধরে ভেতরে ভেতরে রক্তক্ষরণ ঘটায়?
মানুষের মনেও কখনো কখনো এমন ক্ষত তৈরি হয়, যা বাইরে থেকে বোঝার উপায় থাকে না। চোখে পানি নাও থাকতে পারে, মুখে হাসি লেগে থাকতে পারে; অথচ ভেতরে জমে থাকতে পারে গভীর কষ্ট, অভিমান ও দীর্ঘশ্বাস।
সময়কে অনেকেই সবচেয়ে বড় ওষুধ মনে করেন। প্রিয়জনের সান্ত্বনা হয়ে ওঠে ব্যান্ডেজের মতো। কিন্তু সব ক্ষত কি সময়ের সঙ্গে সহজে শুকিয়ে যায়? কিছু ব্যথা যেন সময় পেরিয়েও মনের গভীরে থেকে যায়।
ভালোবাসার অভাব, অবহেলা কিংবা প্রিয় মানুষের দেওয়া আঘাত কখনো কখনো হৃদয়ের ক্ষতকে আরও গভীর করে তোলে। একটি আঘাতের স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে মনের কোণে জমে থাকতে পারে—যেন স্মৃতির পাতায় লুকিয়ে থাকা পুরোনো কোনো ব্যথা।
তবে কষ্টের মাঝেও হৃদয় আশাবাদী থাকে। মানুষ অপেক্ষা করে এমন একজনের জন্য, যিনি মমতার স্পর্শে পুরোনো ক্ষতগুলো আলতো করে ছুঁয়ে দেবেন। সময়, ভালোবাসা ও যত্ন একসঙ্গে হয়তো একদিন সেই মনকে আবারও সুস্থ হয়ে ওঠার পথ দেখাবে।
হৃদয়ের এই অদৃশ্য অসুখের নাম হয়তো ‘ডায়াবেটিস’ নয়। কিন্তু কিছু মানসিক ক্ষত যে সত্যিই সহজে শুকাতে চায় না—সেটিই যেন এই লেখার মূল উপলব্ধি।
মারুফ হাসান সৌরভ

