ঢাকাWednesday , 2 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলামিক
  7. কবিতা
  8. কলাম
  9. কুমিল্লা জেলার খবর
  10. খেলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা খবর
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. দৈনিক জনতার মতামত পরিবার
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৪৮ বছরের কুমিল্লা বিএনপি: আকবরের আদর্শ, রাবেয়ার নেতৃত্ব, ইয়াছিনের সংগঠন ও সাক্কুর নগর রাজনীতি নেতৃত্বের পালাবদল, আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্বাচনী রাজনীতি ও তৃণমূলের ত্যাগে কুমিল্লা বিএনপির দীর্ঘ পথচলা

News Admin
September 2, 2026 6:00 am
Link Copied!

৬৭

মোঃ শাহজাহান বাশার

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় কুমিল্লা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে দলটির যাত্রা শুরুর পর দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো কুমিল্লাতেও বিএনপির সাংগঠনিক বিস্তার ঘটেছে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে। এই দীর্ঘ সময়ে নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়েছে, তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বলয়, এসেছে আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্বাচনী সাফল্য ও ব্যর্থতা; পাশাপাশি দেখা দিয়েছে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও।

কুমিল্লা বিএনপির ইতিহাস তাই শুধু কয়েকজন শীর্ষ নেতার রাজনৈতিক জীবনী নয়; এটি একটি রাজনৈতিক সংগঠনের বিকাশ, নেতৃত্বের উত্তরাধিকার, স্থানীয় রাজনীতির পরিবর্তন এবং হাজারো নেতাকর্মীর ত্যাগের ইতিহাস। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে রয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লে. কর্নেল (অব.) আকবর হোসেন, বেগম রাবেয়া চৌধুরী, হাজী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন এবং মনিরুল হক সাক্কু। প্রত্যেকের রাজনৈতিক পথচলা ও নেতৃত্বের ধরন ছিল আলাদা। কারও প্রধান শক্তি ছিল সাংগঠনিক দক্ষতা ও দলীয় ভিত্তি নির্মাণ, কারও নেতৃত্বে ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাব, আবার কেউ জনপ্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে নগরবাসীর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি করে নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তুলেছেন।

কুমিল্লা বিএনপির প্রাথমিক ভিত্তি নির্মাণের আলোচনায় লে. কর্নেল (অব.) আকবর হোসেনের নাম বিশেষভাবে উঠে আসে। মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত এই সামরিক কর্মকর্তা পরবর্তী সময়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তিনি দলটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কুমিল্লা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। জাতীয় রাজনীতিতেও তাঁর অবস্থান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি মন্ত্রিসভায়ও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তার সময় কুমিল্লায় বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী হয় এবং দলটির বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে ওঠে।

প্রবীণ নেতাকর্মীদের অনেকের কাছে আকবর হোসেন ছিলেন কুমিল্লা বিএনপির অন্যতম ভিত্তি নির্মাতা। তাঁর নেতৃত্বের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল দলীয় সংগঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মীদের একত্রিত রাখা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কুমিল্লার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও দলের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০০৬ সালে তাঁর মৃত্যুর পর কুমিল্লা বিএনপির রাজনীতিতে স্বাভাবিকভাবেই নেতৃত্বের নতুন সমীকরণ তৈরি হয়।

এই সময়ের কুমিল্লা বিএনপির রাজনীতিতে বেগম রাবেয়া চৌধুরীর ভূমিকাও ছিল উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কুমিল্লার রাজনীতিতে একজন প্রভাবশালী নারী নেতৃত্ব হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান। এমন একটি সময়ে, যখন স্থানীয় রাজনীতিতে নারীর নেতৃত্বের পরিসর তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল, তখন রাবেয়া চৌধুরীর রাজনৈতিক সক্রিয়তা কুমিল্লার বিএনপির রাজনীতিতে আলাদা মাত্রা যোগ করে।

রাবেয়া চৌধুরীর নেতৃত্ব ছিল শুধু পদকেন্দ্রিক নয়; দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি একটি নিজস্ব রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি করেছিলেন। আকবর হোসেনের সময়ের নেতৃত্ব কাঠামোর সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা মিলিয়ে কুমিল্লা বিএনপির একটি দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ পর্ব তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে বয়স ও শারীরিক বাস্তবতায় মাঠের রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয়তা কমলেও কুমিল্লা বিএনপির ইতিহাসে তাঁর নাম গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব হিসেবে থেকে যায়।

আকবর হোসেনের মৃত্যুর পর কুমিল্লা বিএনপির রাজনীতিতে ধীরে ধীরে নতুন নেতৃত্ব সামনে আসতে শুরু করে। দলীয় সংগঠনকে কেন্দ্র করে হাজী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিনের অবস্থান শক্তিশালী হতে থাকে। অন্যদিকে কুমিল্লা শহরের রাজনীতিতে মনিরুল হক সাক্কু জনপ্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে নিজস্ব রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে থাকেন। ফলে কুমিল্লা বিএনপির রাজনীতিতে ধীরে ধীরে দুটি ভিন্ন প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে—একদিকে দলীয় সংগঠন ও সাংগঠনিক কাঠামোকে কেন্দ্র করে রাজনীতি, অন্যদিকে নগরবাসীর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক ও জনপ্রতিনিধিত্বকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অবস্থান।

হাজী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন কুমিল্লা বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। দলীয় কাঠামো, নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি এবং সংগঠনকে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত। আকবর হোসেন-পরবর্তী সময়ে কুমিল্লা বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে ইয়াছিনের উত্থান ছিল নেতৃত্বের পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিফলন। তাঁর রাজনীতির বড় অংশজুড়ে ছিল সংগঠন, দলীয় কর্মসূচি এবং তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ।

তবে কুমিল্লার বিএনপির রাজনীতিতে নেতৃত্বের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য ও রাজনৈতিক দূরত্বও আলোচনায় এসেছে। এসব মতপার্থক্য কখনো দলীয় সংগঠনে প্রভাব ফেলেছে, কখনো নির্বাচনী রাজনীতিতেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। আবার রাজনৈতিক প্রয়োজন ও দলীয় বৃহত্তর স্বার্থে বিভিন্ন সময়ে ঐক্যের উদ্যোগও দেখা গেছে। ফলে কুমিল্লা বিএনপির রাজনীতি শুধু নেতৃত্বের উত্থানের ইতিহাস নয়, বরং সমন্বয়, প্রতিযোগিতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ারও ইতিহাস।

এই ধারার অন্যদিকে মনিরুল হক সাক্কুর রাজনৈতিক উত্থান কুমিল্লার নগর রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় তৈরি করে। যুবদলের রাজনীতি থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা সাক্কু ধাপে ধাপে জনপ্রতিনিধিত্বের রাজনীতিতে উঠে আসেন। ২০০৫ সালে তিনি কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায়ও পৌর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১২ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়ে নগর রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে সাক্কুর বিজয় ছিল নগর রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। দলীয় পরিচয়ের বাইরে নাগরিক ভোটের ওপর নির্ভর করে তাঁর বিজয় প্রমাণ করে যে কুমিল্লা শহরে তাঁর একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছিল। ২০১৭ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে তিনি আবারও মেয়র নির্বাচিত হন। পরপর দুই দফায় মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন তাঁর নগরভিত্তিক রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে।

দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি থাকার ফলে কুমিল্লা শহরের রাজনীতিতে সাক্কুর নিজস্ব অনুসারী ও রাজনৈতিক সম্পর্কের বলয় তৈরি হয়। এখানেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে দলীয় সাংগঠনিক রাজনীতির একটি পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, অন্যদিকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নগরবাসীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ভিত্তিও গড়ে তুলেছিলেন।

এই দ্বৈত রাজনৈতিক বাস্তবতার সবচেয়ে বড় প্রকাশ ঘটে ২০২২ সালের কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে ওই বছরের ১৯ মে মনিরুল হক সাক্কুকে বিএনপি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। ঘটনাটি কুমিল্লার রাজনৈতিক ইতিহাসে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি ও নগর রাজনীতির পরিচিত মুখ সাক্কুর সঙ্গে দলীয় নেতৃত্বের দূরত্ব তখন প্রকাশ্য রূপ নেয়।

তবে দলীয় বহিষ্কারের পরও কুমিল্লা নগর রাজনীতিতে সাক্কুর প্রভাবের আলোচনা থেমে যায়নি। দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধিত্ব, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং নগরভিত্তিক সমর্থনের কারণে তাঁর একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি হয়েছিল। ফলে তাঁর রাজনীতিকে কেবল দলীয় পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা কুমিল্লার নগর রাজনীতির পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না।

অন্যদিকে ইয়াছিনের রাজনীতির প্রধান ভিত্তি ছিল দলীয় সংগঠন ও সাংগঠনিক কাঠামো। এ কারণে কুমিল্লা বিএনপির রাজনীতিতে ইয়াছিন ও সাক্কুকে ঘিরে পৃথক রাজনৈতিক প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা হয়েছে। একদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত, সংগঠন ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয়; অন্যদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিত্ব, নগরবাসীর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা—এই দুই ধারার টানাপোড়েন কুমিল্লার বিএনপির রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ে প্রভাব ফেলেছে।

তবে কুমিল্লা বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাসকে শুধু নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব বা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে দেখলে এই ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। কারণ দলের প্রকৃত সাংগঠনিক শক্তির পেছনে রয়েছেন হাজারো তৃণমূল নেতাকর্মী। ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের সেই নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন, রাজপথে থেকেছেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন এবং সংগঠনকে টিকিয়ে রাখতে ব্যক্তিগত ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

বড় রাজনৈতিক নেতাদের নাম ইতিহাসের পাতায় সহজেই স্থান পায়। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ পথচলার নেপথ্যে থাকা সাধারণ কর্মীদের অবদান অনেক সময় আলোচনার বাইরে থেকে যায়। কুমিল্লা বিএনপির ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার, রাজনৈতিক চাপ কিংবা সাংগঠনিক প্রতিকূলতার মধ্যেও যারা দলের সঙ্গে থেকেছেন, তাঁদের অবদান ছাড়া কুমিল্লায় বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাস পূর্ণতা পায় না।

এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কুমিল্লার রাজনৈতিক বাস্তবতাও বহুবার বদলেছে। জাতীয় রাজনীতির পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় রাজনীতিতে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে বদলেছে রাজনৈতিক পরিবেশ। নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। স্থানীয় নেতৃত্বের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোতেও এসেছে পরিবর্তন। কখনো কোনো নেতা সামনে এসেছেন, কখনো অন্য কেউ নেতৃত্বের কেন্দ্রে চলে গেছেন। কিন্তু প্রতিটি পর্যায়েই বিএনপির রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে তৃণমূলের ভূমিকা ছিল অপরিহার্য।

৪৮ বছরের এই পথচলায় আকবর হোসেন কুমিল্লা বিএনপির প্রাথমিক ভিত্তি নির্মাণ ও সাংগঠনিক বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। রাবেয়া চৌধুরী দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাবশালী নারী নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন। আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন দলীয় সংগঠন ও সাংগঠনিক রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। আর মনিরুল হক সাক্কু জনপ্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে কুমিল্লার নগর রাজনীতিতে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

তাঁদের রাজনৈতিক পথ এক নয়, নেতৃত্বের ধরনও এক নয়। প্রত্যেকের সময়, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও কর্মক্ষেত্র ছিল ভিন্ন। তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য যেমন ছিল, তেমনি বিভিন্ন সময়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতায় সমন্বয়ের ঘটনাও ঘটেছে। তাই কুমিল্লা বিএনপির ইতিহাসকে কোনো একজন ব্যক্তি বা একটি বলয়ের ইতিহাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি বহু নেতৃত্ব, বহু প্রজন্ম এবং অসংখ্য নেতাকর্মীর সম্মিলিত রাজনৈতিক পথচলা।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কুমিল্লার রাজনীতির দিকে ফিরে তাকালে তাই একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—সময় বদলেছে, নেতৃত্ব বদলেছে, রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে; কিন্তু দলীয় রাজনীতির মূল শক্তি হিসেবে তৃণমূলের ভূমিকা থেকে গেছে অপরিবর্তিত।

আকবর হোসেনের সাংগঠনিক ভিত্তি, রাবেয়া চৌধুরীর নেতৃত্ব, ইয়াছিনের সংগঠনকেন্দ্রিক রাজনীতি, সাক্কুর নগরভিত্তিক জনপ্রিয়তা এবং অসংখ্য তৃণমূল নেতাকর্মীর ত্যাগ—সব মিলিয়েই গড়ে উঠেছে কুমিল্লা বিএনপির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাস।

এই ইতিহাসে যেমন সাফল্য আছে, তেমনি রয়েছে ভুল-ত্রুটি ও মতপার্থক্য; আছে রাজনৈতিক উত্থান-পতন, আছে নেতৃত্বের পরিবর্তন। কিন্তু সবকিছুর ঊর্ধ্বে রয়েছে একটি রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা। আর সেই অভিজ্ঞতাই আগামী দিনের কুমিল্লা বিএনপির রাজনীতির জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা—ব্যক্তি নয়, সংগঠন; বিভাজন নয়, ঐক্য; এবং নেতৃত্বের পাশাপাশি তৃণমূলের আস্থাই একটি রাজনৈতিক দলের দীর্ঘস্থায়ী শক্তির মূল ভিত্তি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।