মো: সবুজ হোসেন রাজা,শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রত্না খাতুন (২৩) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার যমুনা চরবেষ্টিত সোনাতনী ইউনিয়নের বড় চামতারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় রত্নাকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে তাকে বিষপানে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. শাহজাহান আলী বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দিয়েছেন। মামলায় রত্নার স্বামী মো. আব্দুল কাদের (৩০)-কে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এজাহারে নাম রয়েছে মো. আবু সাঈদ (৩৭), মো. আব্দুস সামাদ (৩২), মো. তুষ্ট শেখ (৫৫), মো. আব্দুল আলীম (৩৭) এবং মোছা. রহিমা খাতুন (৩০)-এর। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার সব আসামিই সোনাতনী ইউনিয়নের বড় চামতারা গ্রামের বাসিন্দা।
নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে শাহজাদপুর উপজেলার গুধিবাড়ী গ্রামের মো. শাহজাহান আলীর মেয়ে রত্না খাতুনের সঙ্গে বড় চামতারা গ্রামের মো. আব্দুল কাদেরের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে কনা খাতুন নামে তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
নিহতের বাবা শাহজাহান আলীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই আব্দুল কাদের কোনো নিয়মিত কাজ না করে জুয়া খেলায় আসক্ত ছিলেন। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের প্ররোচনায় রত্নার কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় বিভিন্ন সময়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো।
তিনি আরও জানান, মৃত্যুর প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন আগে রত্না বাবার বাড়িতে এসে স্বামীর দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবির কথা জানান। ওই টাকা দিতে না পারলে তাকে আর সংসারে ফিরতে নিষেধ করা হয়েছিল বলেও পরিবারের কাছে অভিযোগ করেন রত্না। পরে ছোট মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে গত ২২ আগস্ট তিনি স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান।
পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কয়েকদিন পর গত ২৯ আগস্ট সকালে ফের টাকার দাবিতে রত্নার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এর কিছুক্ষণ পর বেলা ১১টার দিকে আসামিদের একজন ফোন করে রত্নার পরিবারের সদস্যদের তার মৃত্যুর খবর দেন।
খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত বড় চামতারা গ্রামে আব্দুল কাদেরের বাড়িতে গিয়ে টিনের ঘরের বারান্দায় রত্নার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন বলে জানিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পুলিশ জানায়, রত্নার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তবে এটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

