ঢাকাSunday , 4 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলামিক
  7. কবিতা
  8. কলাম
  9. কুমিল্লা জেলার খবর
  10. খেলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা খবর
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. দৈনিক জনতার মতামত পরিবার
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কবি এম. এরশাদুর রহমান: জীবন, সাহিত্যকর্ম ও সৃজনশীল অভিযাত্রা

Shahjahan Bashar
October 4, 2026 5:23 am
Link Copied!

৩৭

মোহাম্মদ হোসাইন

কক্সবাজারের টেকনাফ—নাফ নদী, বঙ্গোপসাগর, পাহাড়, সীমান্তজীবন এবং বৈচিত্র্যময় মানুষের জীবনযাত্রায় গড়ে ওঠা একটি অনন্য জনপদ। এই জনপদের সাহিত্যচর্চায় যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের সৃষ্টিশীলতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অবদান রেখে চলেছেন, কবি এম. এরশাদুর রহমান তাঁদের অন্যতম।

তিনি একই সঙ্গে কবি, লেখক, গবেষক ও বহু গ্রন্থের প্রণেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর লেখায় প্রেম, প্রকৃতি, মানবজীবন, নৈতিকতা, ধর্মীয় চেতনা, ইতিহাস, স্থানীয় ঐতিহ্য ও মানুষের জীবন নানা মাত্রায় উঠে এসেছে। টেকনাফের সাহিত্যচর্চাকে কেন্দ্র করে তাঁর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডও উল্লেখযোগ্য।

সাম্প্রতিক এক সাহিত্য আয়োজনে তাঁকে টেকনাফের নবীন-প্রবীণ লেখকদের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যায়। সেখানে তাঁর ‘হোয়াইক্যং-এর ইতিহাস’ গ্রন্থ নিয়েও পৃথক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

জন্ম ও শৈশব

আপনার সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, এম. এরশাদুর রহমানের জন্ম ১২ মে ১৯৮৬ সালে। তাঁর জন্মস্থান হোয়াইক্যং ইউনিয়ন, টেকনাফ, কক্সবাজার।

নাফ নদী, সীমান্তবর্তী জনপদ, সমুদ্র ও উপকূলীয় প্রকৃতি এবং স্থানীয় মানুষের জীবন তাঁর শৈশব-কৈশোরের পরিবেশকে প্রভাবিত করেছে। তাঁর সাহিত্যকর্মে স্থানীয় প্রকৃতি, মানুষ ও সমাজের যে উপস্থিতি দেখা যায়, তার সঙ্গে এই পরিবেশের একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক রয়েছে।

তাঁর পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, পিতার নাম মকবুল আহমদ এবং মাতার নাম সবুরা খাতুন।

শিক্ষাজীবন ও লেখালেখির সূচনা

এম. এরশাদুর রহমানের সাহিত্যিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তাঁর শৈশবের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাহরুল উলুমকে ঘিরে। তিনি এই প্রতিষ্ঠানকে তাঁর প্রথম বিদ্যাপীঠ হিসেবে স্মরণ করেছেন।

তাঁর ‘বাহরুল উলুমের গোলাপ ফুল’ কবিতায় সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শৈশবের স্মৃতি এবং লেখালেখির সূচনার কথা উঠে এসেছে। ফলে তাঁর সাহিত্যিক আত্মপরিচয়ের সঙ্গে শিক্ষাজীবনের স্মৃতির একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

সাহিত্যজীবন

এম. এরশাদুর রহমানের লেখালেখির পরিধি বিস্তৃত। কবিতা দিয়ে তাঁর সাহিত্যিক পরিচয় সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হলেও তাঁর সৃজনশীলতা কেবল কবিতায় সীমাবদ্ধ নয়।

তাঁর প্রকাশিত ও প্রকাশাধীন গ্রন্থের সংখ্যা ৩৬টি—আপনার দেওয়া গ্রন্থতালিকা অনুযায়ী। এসব গ্রন্থে কাব্য, স্থানীয় ইতিহাস ও গবেষণা, জীবনী, জীবনকথা এবং স্মৃতিকথার মতো বিভিন্ন বিষয় স্থান পেয়েছে।

তাঁর সাহিত্যকর্মে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, প্রকৃতি ও মানবিক সম্পর্ক উঠে এসেছে, অন্যদিকে তেমনি স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক বাস্তবতাও স্থান পেয়েছে।

কাব্যচর্চা

এম. এরশাদুর রহমান মূলত কবি হিসেবে তাঁর সাহিত্যিক পরিচিতি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর কবিতার বিষয়বৈচিত্র্যের মধ্যে রয়েছে—

– প্রেম ও ভালোবাসা
– প্রকৃতি
– মানবজীবন
– পরিবার ও দাম্পত্য
– ধর্মীয় মূল্যবোধ
– দেশ ও সমাজ
– নৈতিকতা
– ইতিহাস ও ঐতিহ্য
– স্মৃতি ও ব্যক্তিগত অনুভূতি
– স্থানীয় জীবন ও পরিবেশ

তাঁর কবিতার একটি বৈশিষ্ট্য হলো—জটিল বিষয়কে অনেক সময় সহজ ও সরল ভাষায় প্রকাশ করার চেষ্টা।

উদাহরণ হিসেবে তাঁর ‘বিয়ে মানে’ কবিতার কথা বলা যায়। এতে বিয়ে, দাম্পত্যজীবন ও ভালোবাসাকে সহজ ছন্দে তুলে ধরা হয়েছে।

আবার ‘কবির দুঃখ’ কবিতায় কবির একাকিত্ব, দাম্পত্যবোধ এবং কবিতার সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্কের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।

প্রেম ও মানবিক অনুভূতি

এম. এরশাদুর রহমানের কবিতার অন্যতম প্রবণতা হলো মানবিক আবেগকে সহজ ভাষায় প্রকাশ করা।

প্রেম তাঁর কাছে শুধু রোমান্টিক অনুভূতি নয়; পরিবার, জীবনসঙ্গী, সন্তান, বিচ্ছেদ, স্মৃতি এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কও তাঁর কবিতায় প্রেমের বিস্তৃত পরিসরের অংশ হয়ে ওঠে।

‘বিয়ে মানে’ কবিতায় যেমন দাম্পত্যজীবনের আনন্দ, দায়িত্ব ও ভালোবাসার কথা এসেছে, তেমনি ‘কবির দুঃখ’-এর মতো রচনায় এসেছে বিচ্ছেদ ও নিঃসঙ্গতার অনুভূতি।

ধর্মীয় ও নৈতিক চেতনা

তাঁর সাহিত্যকর্মের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ।

তাঁর গ্রন্থতালিকায় ‘মহানবী’র কথা বলছি’-এর মতো ধর্মীয় বিষয়ভিত্তিক বই রয়েছে। এ ধরনের রচনার মধ্য দিয়ে তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিক আদর্শকে সাহিত্যিক ভাষায় পাঠকের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

ইতিহাস ও গবেষণামূলক কাজ

এম. এরশাদুর রহমানের সাহিত্যজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো স্থানীয় ইতিহাস সংরক্ষণ ও গবেষণাধর্মী লেখালেখি।

‘হোয়াইক্যং-এর ইতিহাস’

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘হোয়াইক্যং-এর ইতিহাস’। এটি শুধু একটি সাহিত্যগ্রন্থ নয়; স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।

২০২৫ সালের টেকনাফের একটি বৃহৎ সাহিত্য আয়োজনে তাঁর ‘হোয়াইক্যং-এর ইতিহাস’ নিয়ে কবি আজিজুর রহমান বিস্তারিত আলোচনা করেন।

স্থানীয় ইতিহাস নিয়ে লেখার মাধ্যমে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন—নিজ এলাকার অতীত, মানুষ, ঐতিহ্য ও সামাজিক স্মৃতিকে লিখিত আকারে সংরক্ষণের চেষ্টা।

জীবনী ও জীবনকথা রচনায় ভূমিকা

এম. এরশাদুর রহমান শুধু কবিতা লেখেন না; অন্য মানুষের জীবন ও কর্ম নিয়েও লেখেন।

সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর লেখা ‘আলহাজ্ব আবদুল গফুর চৌধুরীর জীবন কথা’ প্রকাশের খবর পাওয়া গেছে। বইটিতে আলহাজ্ব আবদুল গফুর চৌধুরীর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও জনসেবামূলক জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে।

এ ধরনের জীবনী রচনার মাধ্যমে তিনি স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জীবন ও কর্মকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার কাজ করছেন।

সাহিত্যিক গবেষণা ও সমালোচনা

এম. এরশাদুর রহমানের সৃজনশীল কাজের আরেকটি দিক হলো অন্য লেখকের বই নিয়ে আলোচনা ও সাহিত্যসমালোচনা।

২০২৫ সালের টেকনাফের একটি সাহিত্য আয়োজনে তিনি লেখক আবুল কালাম আজাদের ‘সাত তরী স্বপ্ন পরী’ গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন। একই অনুষ্ঠানে তাঁর নিজের ‘হোয়াইক্যং-এর ইতিহাস’ নিয়ে কবি আজিজুর রহমান আলোচনা করেন।

অর্থাৎ তিনি একই সঙ্গে—

লেখক → পাঠক → আলোচক → গবেষক

—এই চারটি ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত।

টেকনাফের সাহিত্যচর্চায় ভূমিকা

টেকনাফের সাহিত্যচর্চাকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রেও এম. এরশাদুর রহমানের ভূমিকা রয়েছে।

আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি কলতান সাহিত্য পরিষদ, টেকনাফের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে প্রকাশিত একটি কবিতার সূত্রে তাঁকে নাফ মোহনা সাহিত্য নিলয়, টেকনাফ, কক্সবাজারের সভাপতি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছিল।

এ ছাড়া আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি নাফ মোহনা সাহিত্য নিলয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং নাফ আলো শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও সাংগঠনিকভাবে যুক্ত।

‘একক বইমেলা’—একটি ব্যতিক্রমী সৃজনশীল উদ্যোগ

এম. এরশাদুর রহমানের সাহিত্যজীবনের অন্যতম আলোচিত সৃজনশীল উদ্যোগ হলো ‘একক বইমেলা’।

আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর লেখা বইগুলো নিয়ে একক লেখকের বইমেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর প্রকাশিত ৩৬টি বইকে কেন্দ্র করে পাঠক ও সাহিত্যপ্রেমীদের সামনে তাঁর সাহিত্যকর্ম উপস্থাপন করা হয়।

এই উদ্যোগের মূল ভাবনা ছিল—

«“টেকনাফের পাঠককে বইয়ের কাছে যেতে হবে না, বইকেই পাঠকের কাছে আসতে হবে।”»

এই চিন্তাটি তাঁর সাহিত্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে প্রকাশ করে। তিনি শুধু বই লিখে থেমে থাকতে চাননি; বইকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন।

৩৬টি গ্রন্থের স্রষ্টা

আপনার দেওয়া গ্রন্থতালিকা অনুযায়ী, এম. এরশাদুর রহমানের প্রকাশিত ও প্রকাশাধীন গ্রন্থের সংখ্যা ৩৬টি।

তাঁর গ্রন্থগুলোকে মোটামুটি কয়েকটি ভাগে দেখা যায়—

১. কাব্যগ্রন্থ ও কাব্যপুস্তিকা

প্রেম, প্রকৃতি, মানবজীবন, ধর্ম, সমাজ ও নানা সমকালীন বিষয় নিয়ে রচিত কবিতার বই।

২. ইতিহাস ও স্থানীয় গবেষণা

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—

– নাফ দর্পণ — ২০১৮
– হোয়াইক্যং-এর ইতিহাস — ২০২১

৩. জীবনী, জীবনকথা ও স্মৃতিকথা

বিভিন্ন ব্যক্তি, সমাজ ও স্থানীয় ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত জীবন ও স্মৃতি নিয়ে রচিত গ্রন্থ।

৪. ধর্মীয় ও মূল্যবোধভিত্তিক সাহিত্য

ইসলামি আদর্শ, নৈতিকতা ও ধর্মীয় চেতনাকে কেন্দ্র করে রচিত বিভিন্ন কাজ।

‘বাহরুল উলুমের গোলাপ ফুল’

এটি তাঁর আত্মস্মৃতি ও শিক্ষাজীবনের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ কবিতা।

কবিতাটিতে বাহরুল উলুমকে তিনি তাঁর প্রথম বিদ্যাপীঠ হিসেবে স্মরণ করেছেন। শৈশবের শিক্ষা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মাদ্রাসার পরিবেশ এবং সেখান থেকেই লেখালেখির সূচনার স্মৃতি এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

এই কবিতা থেকে তাঁর সৃষ্টিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বোঝা যায়—নিজের জীবনের স্মৃতি ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সাহিত্যিক উপাদানে পরিণত করা।

‘ইনসাফ’ ও সামাজিক চেতনা

তাঁর ‘ইনসাফ’ কবিতায় ন্যায়বিচার, সমাজ ও সমকালীন ঘটনাবলির প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ দেখা যায়।

অর্থাৎ তাঁর কবিতা শুধু প্রেম ও প্রকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সামাজিক ও সমকালীন বিষয়ও তাঁর লেখায় জায়গা পেয়েছে।

কবিতায় টেকনাফ

এম. এরশাদুর রহমানের সাহিত্যিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো নিজ জন্মভূমিকে সাহিত্যিক উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা।

টেকনাফ তাঁর কাছে শুধু একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়। নাফ নদী, সমুদ্র, সীমান্ত, পাহাড়, মানুষ, স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি—সব মিলিয়ে টেকনাফ তাঁর সাহিত্যিক ভাবনার একটি বড় ক্ষেত্র।

এই দিক থেকে তাঁর সাহিত্যকে স্থানীয় জীবন ও বৃহত্তর বাংলা সাহিত্যের মধ্যে একটি সেতুবন্ধনের প্রয়াস হিসেবে দেখা যায়।

কবি হিসেবে তাঁর সৃজনশীল বৈশিষ্ট্য

এম. এরশাদুর রহমানের লেখালেখির কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—

১. সহজ ভাষা: সাধারণ পাঠকের কাছে পৌঁছানোর মতো ভাষা ব্যবহারের চেষ্টা।

২. ছন্দের ব্যবহার: তাঁর বেশ কিছু কবিতায় ছন্দ ও অন্ত্যমিলের প্রতি আগ্রহ দেখা যায়।

৩. মানবিকতা: মানুষের সম্পর্ক, দুঃখ, আনন্দ, ভালোবাসা ও বিচ্ছেদ তাঁর কবিতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

৪. ধর্মীয় মূল্যবোধ: ইসলামি আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষা তাঁর সৃষ্টিতে জায়গা পেয়েছে।

৫. স্থানীয় ইতিহাস: নিজের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে লিখিতভাবে সংরক্ষণের চেষ্টা।

৬. স্মৃতিচর্চা: ব্যক্তিগত ও স্থানীয় স্মৃতিকে সাহিত্যিক রূপ দেওয়া।

৭. বহুমুখী লেখালেখি: কবিতার পাশাপাশি ইতিহাস, জীবনী ও গবেষণামূলক লেখায় যুক্ত হওয়া।

সাহিত্যিক সংগঠক হিসেবে ভূমিকা

একজন লেখকের কাজ শুধু নিজের বই প্রকাশ করা নয়; নতুন লেখক তৈরি, পাঠক তৈরি এবং সাহিত্যিক পরিবেশ সৃষ্টি করাও সাহিত্যচর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

টেকনাফের সাম্প্রতিক সাহিত্য আয়োজনগুলোতে নবীন-প্রবীণ বহু লেখককে একই মঞ্চে আনার চেষ্টা দেখা গেছে। ২০২৫ সালের একটি আয়োজনে ৩০ জন লেখকের বই নিয়ে ৩০ জন আলোচক আলোচনা করেন। সেখানে এম. এরশাদুর রহমানও আলোচক ও লেখক—দুই ভূমিকাতেই উপস্থিত ছিলেন।

এ ধরনের আয়োজন টেকনাফের সাহিত্যচর্চাকে স্থানীয় পর্যায়ে আরও সংগঠিত করার একটি দৃষ্টান্ত।

বৃহত্তর সাহিত্যাঙ্গনে উপস্থিতি

এম. এরশাদুর রহমান শুধু টেকনাফেই সাহিত্যচর্চা করেন—এমন নয়। কক্সবাজারের সাহিত্য আয়োজনেও তাঁর উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমির কবিতাসন্ধ্যায় তাঁর কবিতা পাঠের উল্লেখ রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের আরও বহু কবি কবিতা পাঠ করেন।

এটি তাঁর সাহিত্যিক কর্মকাণ্ডের বিস্তৃত পরিসরের একটি দৃষ্টান্ত।

পরিবার

আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এম. এরশাদুর রহমান রেহেনা রহমানকে ২৫ মে ২০১৫ সালে বিয়ে করেন।

তাঁদের তিন ছেলে—

১. আব্দুর রহমান
২. লুৎফর রহমান
৩. মাহফুজুর রহমান

সাহিত্যিক উত্তরাধিকার

এম. এরশাদুর রহমানের সাহিত্যিক কাজকে শুধু তাঁর লেখা কবিতা বা বইয়ের সংখ্যার মাধ্যমে বিচার করলে তাঁর সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না।

তাঁর কাজের তিনটি দিক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—

সৃষ্টি

কবিতা, কাব্যগ্রন্থ, ধর্মীয় সাহিত্য, জীবনী ও ইতিহাস রচনা।

সংরক্ষণ

হোয়াইক্যং ও টেকনাফের স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানুষের জীবনকে লিখিতভাবে ধরে রাখার চেষ্টা।

সংগঠন

সাহিত্য পরিষদ, সাহিত্য সংগঠন, বই আলোচনা, সাহিত্য আড্ডা এবং একক বইমেলার মতো উদ্যোগের মাধ্যমে পাঠক ও লেখকদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করা।

উপসংহার

কবি এম. এরশাদুর রহমান টেকনাফের সাহিত্যভুবনে একজন বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীল মানুষ। কবিতা তাঁর প্রধান পরিচয় হলেও তাঁর কর্মপরিসর কবিতার সীমানা অতিক্রম করেছে। তিনি স্থানীয় ইতিহাস অনুসন্ধান করেছেন, জীবনী লিখেছেন, ধর্মীয় ও নৈতিক ভাবনাকে সাহিত্যে প্রকাশ করেছেন, অন্য লেখকের বই নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং স্থানীয় সাহিত্যচর্চাকে সংগঠিত করার কাজে যুক্ত থেকেছেন।

তাঁর ৩৬টি গ্রন্থের সাহিত্যভাণ্ডার, নাফ দর্পণ, হোয়াইক্যং-এর ইতিহাস, মহানবী’র কথা বলছি, *‘বাহরুল উলুমের গোলাপ ফুল’, ‘ইনসাফ’, ‘বিয়ে মানে’*সহ বিভিন্ন রচনা তাঁর সৃষ্টিশীলতার নানা দিক তুলে ধরে। তাঁর ‘হোয়াইক্যং-এর ইতিহাস’ নিয়ে টেকনাফের সাহিত্য আয়োজনে পৃথক আলোচনা হওয়া এবং কক্সবাজারের সাহিত্যসভায় তাঁর কবিতা পাঠের তথ্য তাঁর সাহিত্যিক উপস্থিতিরও দৃষ্টান্ত।

সব মিলিয়ে, এম. এরশাদুর রহমানের সাহিত্যকর্মকে টেকনাফের স্থানীয় ইতিহাস, মানুষের জীবন, প্রকৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ, প্রেম, স্মৃতি ও সামাজিক চেতনার একটি সম্মিলিত সাহিত্যিক দলিল হিসেবে পাঠ করা যায়।

তাঁর সবচেয়ে বড় সৃজনশীল পরিচয় সম্ভবত এখানেই—তিনি নিজের জন্মভূমি ও মানুষের জীবনকে লেখার বিষয় করেছেন এবং সেই লেখাকে বই, আলোচনা ও সাহিত্য-আয়োজনের মাধ্যমে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।