ঢাকাSaturday , 10 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলামিক
  7. কবিতা
  8. কলাম
  9. কুমিল্লা জেলার খবর
  10. খেলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা খবর
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. দৈনিক জনতার মতামত পরিবার
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কোন সংকটে — দেশ ও ধর্মের প্রয়োজনে, ঐক্যের বিকল্প নেই

Md. Shahriya Sikder
October 10, 2026 4:31 pm
Link Copied!

১৯

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির।।

বিশ্ব আজ এক অস্থির সময় পার করছে। রাজনৈতিক প্রতিবন্ধিতা, ক্ষমতার সংঘাত, ধর্মীয় মেরুকরণ এবং নানা অঞ্চলে চলমান সংখ্যক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে ক্রমেই অনিশ্চিত করে তুলেছে। কোথাও যুদ্ধ, কোথাও দখল, কোথাও বা বাস্তুচ্যুতি- সব মিলিয়ে মানবসভ্যতার সামনে নিরাপত্তা ও সহাবস্থানের প্রশ্নটি আজ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এই বৈশ্বিক বাস্তবতায় মুসলিম উম্মাহর পারস্পরিক ঐক্য যেমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জন্য জাতীয় সংহতি ও নাগরিক ঐক্যও অপরিহার্য। একটি সমাজ যখন অভ্যন্তরীণ বিভাজনে জর্জরিত ও দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন যেকোনো বহিরাগত বা অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাও দ্রুত ক্ষয়ে যায়।
সুতরাং,কে কোন দলের, আর কে কোন মতের?এ প্রশ্নের দিকে না গিয়ে বরং কে বড়, কে ছোট এসব বাদদিয়ে, বিভিন্ন মত ও পরিচয়ের মানুষ কি পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও শক্তিশালী সমাজ নির্মাণ করার তাগিদে বিবেকবান, সচেতন ও দায়িত্বশীল সবার দায়িত্ব ? বিরোধ থাকা সত্ত্বেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে ? আসুন, এবিষয়ে সোচ্চার ও সচেতন হই।

ইসলাম ধর্মে উম্মাহর ঐক্য এবং ভ্রাতৃত্ববোধের ওপর সর্বাপেক্ষা বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। পবিত কোরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন-‘আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজুকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না’ (সূরা আলে ইমরান, ৩:১০৩)। এই নির্দেশ কেবল একটি ধর্মীয় অনুশাসন নয়, বরং এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের টিকে থাকার মূল ভিত্তি। একটি জনগোষ্ঠী অভিন্ন মূল্যবোধ ও বৃহত্তর স্বার্থকে সামনে রেখে একত্রে থাকলে তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিপরীতে, পারস্পরিক বিভেদ ও সংঘাত সমাজকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়। কোরআনে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে- ‘আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর এবং নিজেদের মধ্যে ঝগড়া- বিবাদ কর না, তাহলে তোমরা সাহস হারাবে এবং তোমাদের শক্তি বা প্রভাব কমে যাবে। আর ধৈর্য ধারণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন’ (সুরা আল-আনফাল, ৮:৪৬)।

আজকের দিনে আয়াত দুটির তাৎপর্য গভীরভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তা যখন বিদ্বেষ, সহিংসতা ও শত্রুতায় রূপ নেয়, তখন তর মাশুল পুরো জাতিকে দিতে হয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মুমিনদের পারস্পরিক ভালবাসা, দয়া ও সহানুভূতিতে তাদের উদাহরণ একটি দেহের মত। যখন দেহের একটি অঙ্গ অসুস্থ হয়, তখন পুরো শরীর অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়।”(সহীহ বুখারী: ৬০১১, সহীহ মুসলিম: ২৫৮৬)।

আজ ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরান বা আমাদের পাশের বাড়ির কোনো নিরপরাধ মানুষ কষ্টে থাকলে – সেটা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা সবাই এক দেহের অংশ।

আমরা কি করতে পারি:
১/দোয়া সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। নির্যাতিতদের জন্য দোয়া করা, ২/ অনুভব করা- তাদের কষ্ট নিজের কষ্ট মনে করা ৩/ নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করা, নিন্দা করা ইত্যাদি।

বৈশ্বিক বাস্তবতা: ফিলিস্তিন ও বসনিয়ার ঐতিহাসিক শিক্ষা বিশ্ব ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, চেচনিয়া, বসনিয়া, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, মিয়ানমার কিংবা বিশ্বের বিভিন্ন জনপদে যখনই – যেখানে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির আগ্রাসন চালিত হয়েছে, তখন তা কোনো নির্দিষ্ট দল বা মতের মানুষকে ছাড় দেয়নি যখন উদারপন্থীরা কোনঠাসা হয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে ইসলামবিদ্বেষী ও উগ্র কট্টরপন্থীরা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে, তখন তারা কোনো আদর্শিক বা দলীয় ভেদাভেদ বিবেচনা করে না। তাদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় গোটা মুসলিম অস্তিত্ব। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ জনপদ কিংবা বসনিয়ার নির্মম ইতিহাস আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, পারস্পরিক মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যবন্ধ না হলে কতটা চড়া মূল্য দিতে হয়। এখানে আমাদের একটি নৈতিক শিক্ষা নেওয়া জরুরি। একটা দেশ বা জাতি কোনো একক সম্প্রদায়ের সম্পত্তি নয়। মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর অন্যায় হলে মুসলমান হিসেবে আমাদের ব্যথিত হওয়া স্বাভাবিক , তবে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের নিরপরাধ মানুষের ওপর অন্যায়ের বিরুদ্ধেও আমাদের একই মানবিক অবস্থান থাকা উচিত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট এবং বিভিন্ন দলীয় কোন্দল নিয়ে আমাদের বেশি ভাবতে হবে। আমাদের নিজেদের দেশ ও সমাজ নিয়ে আমাদের-ই ভাবতে হবে । বাংলাদেশের মানুষ নানা রাজনৈতিক ও আকিদাগত মতাদর্শে বিভক্ত এই বৈচিত্র্য নিজে কোনো সমস্যা নয়, সমস্যা তৈরি হয় যখন মতপার্থক্য পারস্পরিক ঘৃণা ও সংঘাতে রূপ নেয়। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের ভূ- রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বড় ধরনের কোনো সংকট একা মোকাবিলা করার মতো পর্যাপ্ত নয়। এই প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ বিভেদ জিইয়ে নিজের পায়ে নিজে কুঠার মারা। রাজনৈতিক প্রতিবন্ধিতা গণতন্ত্রের অংশ হতে পারে, কিন্তু তা যখন প্রতিহিংসায় পরিণত হয়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্রের ভিত্তি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা। আল্লাহ না করুন, কোনো মুসলিম নিধনকারী বা উগ্র প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি যদি আক্রমণ করে, তবে আঘাত কি শুধু নির্দিষ্ট কোনো দলের ওপর আসবে? নাকি দেশের আপামর জনসাধারণ সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে? ইতিহাস সাক্ষী, বাইরের আঘাত কখনো দল দেখে আসে না।

ঐক্যের সেতু নির্মাণ:
আমাদের সামনে দুটি পথ স্পষ্ট প্রথম পথ: সন্দেহ, বিদ্বেষ, প্রতিহিংসা, অপপ্রচার ও বিভাজনের পথ। এটি আমাদের ভেতর থেকে পঙ্গু করে দেবে।
দ্বিতীয় পথ: সংলাপ, সহনশীলতা, পারস্পরিক সম্মান, ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীল ঐক্যের পথ। এটি আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের শক্তি জোগাবে। ঐক্য মানে এই নয় যে সবাইকে একই মতের হতে হবে। ইসলামের ইতিহাসে সুস্থ মতপার্থক্য ও বিতর্কের অবকাশ ছিল। আমরা রাজনৈতিক বা আদশিক বিরোধিতা করতে পারি, কিন্তু সেই বিরোধিতা যেন মানুষকে শত্রুতে পরিণত না করে। মতকে প্রত্যাখ্যান করা যায়, মানুষকে নয়; যুক্তির সমালোচনা করা যায়, মানুষের মর্যাদাকে নয়। সময় আজ আমাদের সামনে একটি আয়না । বিভক্ত মানুষ, রাজনৈতিক বিদ্বেষ এবং সামাজিক অবিশ্বাস যেমন সত্য, তেমনি এও সত্য যে দেশের মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে বাঁচতে চায়। তাই এখন সময় বিভেদের দেয়াল আরও উচুতে তোলার নয়। বরং সংলাপের দরজা খুলে দেওয়ার। সবাইকে এক কলেমার পতাকা তলে হাজির করার এবং পারস্পরিক বিভক্তির বক্তব্য ও কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার মধ্য দিয়েই আমাদের মুক্তি নিহিত।
আসুন, দল-মতের সংর্কীর্ণতা এবং সব ধরনের বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে, ইসলাম ও মানবতার স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। বিভক্ত পৃথিবীতে ঐক্যই হোক আমাদের শক্তি, আর ন্যায় ও মানবিকতাই হোক সেই ঐক্যের মূল “ভিত্তি”। নিজ নিজ ধর্মের অনুসরণ, আর নিজ দেশের ভালবাসা হোক আমাদের চলার পথের পাথেয়।

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির, সাংবাদিক, ধর্ম ও সমাজ বিশ্লেষক,চেয়ারম্যান- গাউছিয়া ইসলামিক মিশন ও সিনিয়র সহ সভাপতি – বুড়িচং প্রেস ক্লাব, কুমিল্লা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।