মোঃ শাহজাহান বাশার
কেরানীগঞ্জ, ঢাকা: বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, চুরির অভিযোগে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন সদাগর এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে কাজ বন্ধ রেখে এ কর্মসূচি শুরু করেন কয়েক শ শ্রমিক। তাঁদের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে বেতন-ভাতা বকেয়া থাকায় তাঁরা চরম আর্থিক ও পারিবারিক সংকটে পড়েছেন।
পাঁচ মাসের বেতন বকেয়ার অভিযোগ
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, চলতি বছরের মে মাস থেকে তাঁদের অনেকের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে না। বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ একাধিকবার আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, পাওনা বেতন চাইতে গেলে তাঁদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর মধ্যে গত ৪ অক্টোবর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় কয়েকজন শ্রমিকের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে, যেটিকে তাঁরা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করছেন।
‘বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে সংকটে’
প্রতিষ্ঠানটির লেবার ইনচার্জ আফজাল হোসেন বলেন, বেতন না পাওয়ায় তাঁরা চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, অসুস্থ মায়ের জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে তিনি বিপাকে পড়েছেন। মালিকপক্ষের কাছে বারবার অনুরোধ করেও পাওনা টাকা পাননি।
আফজাল হোসেনের দাবি, তিনজন ইনচার্জেরই কোম্পানির কাছে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির অডিট প্রধান আব্দুল গাফফার বলেন, বেতন না পাওয়ায় তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসা ও সন্তানের পড়াশোনার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পারিবারিক কারণে একদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধের পরও সমস্যার সমাধান না করে উল্টো মামলা ও হামলার আশঙ্কার মধ্যে রাখা হচ্ছে তাঁদের।
‘পাওনা চাইলে মারধরের হুমকি’
প্রতিষ্ঠানটির গাড়িচালক মমিনুল ইসলাম বলেন, কোনো কোনো কর্মীর তিন থেকে চার মাস, আবার কারও পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। দিনরাত কাজ করেও প্রাপ্য মজুরি না পাওয়ায় অনেকেই ঋণ ও ধারদেনার ওপর নির্ভর করে সংসার চালাচ্ছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বকেয়া বেতন চাইলে মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সংসারের ব্যয় মেটাতে জমি বন্ধক রাখতে হয়েছে এবং বাসাভাড়া দিতে না পারায় পরিবারকে গ্রামে পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে সিওওর বক্তব্য
সদাগর এক্সপ্রেসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) এমদাদুল ইসলাম বলেন, কোম্পানির মালিকানা পরিবর্তনের সময় নতুন মালিক কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে বেতন পরিশোধ করা হবে না বলে জানানো হচ্ছে এবং নতুন কর্মী নিয়োগের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।
এমদাদুল ইসলামের আরও দাবি, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ও কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ন্যায্য পাওনা দাবি করায় শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন চুরির মামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, কথিত হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে থানায় পাল্টা লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি
আন্দোলনরত কর্মচারীরা জানান, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, মামলার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়সংগত সমাধান এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে সদাগর এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদকের নোট: শ্রমিকদের অভিযোগ, মামলার প্রকৃত বিবরণ এবং কর্তৃপক্ষের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হলে সংবাদটি আরও পূর্ণাঙ্গ হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা জরুরি।

