নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকৃত কার্যালয়ের পরিবর্তে ভূয়া ঠিকানায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই ‘বাংলাদেশ ক্রেতা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ফাউন্ডেশন’-এর নিবন্ধন বাতিলের অভিযোগ উঠেছে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিবন্ধন পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে নিবন্ধন পুনর্বহাল না করা হলে হাইকোর্টে রিট আবেদনসহ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
গত ১১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. কামরুল আলম (কামাল) সংগঠনটির চেয়ারম্যান মো. নূর ইসলামের পক্ষে এ আইনি নোটিশ পাঠান।
আইনি নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশ ক্রেতা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ফাউন্ডেশন ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। একই বছরের ১৪ নভেম্বর আরজেএসসি থেকে প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন পায়। নিবন্ধন নম্বর এস-৬১০৮ (৩৫২)/০৬। ভোক্তাদের অধিকার রক্ষা, প্রতারণা প্রতিরোধ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম উদ্দেশ্য বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশের বিবরণ অনুযায়ী, সংগঠনটির বিরুদ্ধে জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর এর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর আরজেএসসি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে। তবে সেটি সংগঠনটির প্রকৃত কার্যালয় পুরানা পল্টনের ৭০ জি, সিরাজ ম্যানশনের পরিবর্তে ৪/৪-বি, সুমন প্লাজা, পুরানা পল্টন ঠিকানায় পাঠানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ফলে সংগঠনের চেয়ারম্যান নোটিশটি পাননি এবং অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হন বলে আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের ১১ ডিসেম্বর সংগঠনটির নিবন্ধন বাতিল করা হয় এবং ১২ ডিসেম্বর এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
আইনি নোটিশে নিবন্ধন বাতিলের এ প্রক্রিয়াকে প্রাকৃতিক বিচারনীতির পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
আবেদন করেও প্রতিকার মেলেনি
নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি জানার পর সংগঠনটির পক্ষ থেকে ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আবেদন করা হয় বলে নোটিশে উল্লেখ রয়েছে। পরে ২০২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাপরিচালকের কাছেও নিবন্ধন পুনর্বহালের আবেদন করা হয়। তবে এসব আবেদনে প্রত্যাশিত প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান।
এ অবস্থায় আইনি নোটিশ পাঠিয়ে নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং নিবন্ধন পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে। নির্ধারিত তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়েরসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

