মিথ্যা মামলা ও হয়রানির সংস্কৃতি বন্ধ হোক, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হোক রাষ্ট্রের লক্ষ্য
প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, নিরপরাধ মানুষের সুরক্ষা ও প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার প্রত্যাশা
দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, নিরপরাধ মানুষের অধিকার সুরক্ষা এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন মোহাম্মদ মাহামুদুল। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন একটি বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে কোনো নিরপরাধ মানুষকে মিথ্যা মামলা, হয়রানি কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হবে না।
তিনি বলেন, অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢালাওভাবে মামলা দায়ের ও হয়রানির যে অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, সেই ধরনের সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে যেন কোনো মানুষ অন্যায়ভাবে আইনি হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
মাহামুদুলের মতে, অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাত থাকা উচিত নয়। যারা প্রকৃত অর্থে অপরাধের সঙ্গে জড়িত, দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি কিংবা জনগণের ক্ষতির কারণ, তাদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাউকে হয়রানি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের চোখে সবাই সমান। ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল কিংবা সাধারণ নাগরিক—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। তাই অপরাধের অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। নিরপরাধ ব্যক্তির মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করার পাশাপাশি প্রকৃত অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তার ভাষায়, প্রতিহিংসার রাজনীতি কোনো দেশের স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা কিংবা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য সহায়ক নয়। বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নির্বিচারে মামলা দায়েরের সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে ভয়, অবিশ্বাস এবং বিভাজন তৈরি করে। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
মাহামুদুলের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার নিরপরাধ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অন্যায় সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, ন্যায়বিচার চাই। নিরপরাধ মানুষের হয়রানি নয়, অপরাধীর শাস্তি চাই।”
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি প্রত্যাশা, দেশে এমন একটি আইনি ও রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে উঠুক, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে নিজের মত প্রকাশ করতে পারবেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবেন এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আস্থা রাখতে পারবেন।
পরিশেষে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হোক রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; আর নিরপরাধ কেউ যেন অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
লেখক, মোহাম্মদ মাহামুদুল প্রবাসী সাংবাদিক ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা।

