ঢাকাFriday , 23 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলামিক
  7. কবিতা
  8. কলাম
  9. কুমিল্লা জেলার খবর
  10. খেলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা খবর
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. দৈনিক জনতার মতামত পরিবার
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ

Shahjahan Bashar
October 23, 2026 12:01 pm
Link Copied!

৪১

নিউজ ডেস্ক

সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে প্রশাসনিক পদোন্নতি, সম্পদ অর্জন, নিয়োগ-বদলি, সরকারি আবাসন বরাদ্দ এবং রাজধানীর তুষারধারা আবাসিক এলাকায় একাধিক ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের বিভিন্ন দিক নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দৈনিক সময়ের কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ বোরহান হাওলাদার জসিম।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় একদিনে চারটি পদোন্নতির মাধ্যমে সচিব হওয়ার দাবি, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির নিয়োগ ও পদায়ন, কথিত প্রভাব বিস্তার, সম্পদ অর্জনের উৎস এবং তুষারধারা আবাসিক এলাকার একাধিক ভবনের অনুমোদিত নকশা ও অকুপেন্সি সনদসংক্রান্ত প্রশ্ন।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয়ের পেছনে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তির মালিকানাসংক্রান্ত যেসব নথি রয়েছে, সেগুলো নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

দৈনিক সময়ের কণ্ঠের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি সংগ্রহ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় উত্থাপিত সব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই কোনো অভিযোগকেই তদন্তে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।

একদিনে চার পদোন্নতি: কোন প্রক্রিয়ায় সচিব হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম?

সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের প্রশাসনিক পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, ৫ আগস্ট-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় একদিনে চারটি পদোন্নতির মাধ্যমে তিনি সচিব হন।

অভিযোগটি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সময়ের পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নথি, পদ ও গ্রেড পরিবর্তনের বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ—পদোন্নতির আদেশগুলো ঠিক কোন তারিখে জারি হয়েছিল? প্রতিটি পদোন্নতি কোন বিধি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছিল? পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যোগ্যতা ও নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না?

এ ছাড়া বিভিন্ন সমিতি ও সংগঠনের নামে সরকারি দপ্তরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজন এবং সরকারি স্থাপনা ব্যবহারের অনুমোদন নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট অনুমতিপত্র ও প্রশাসনিক নথি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

কথিত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়োগ ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তোফায়েলকে ঘিরে নিয়োগ, প্রশাসনিক প্রভাব এবং আর্থিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত অভিযোগ করেছেন কয়েকজন অভিযোগকারী। তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে কথিত আর্থিক লেনদেনের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য আর্থিক নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনো প্রতিবেদকের হাতে নেই।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোগ্রামার পদে তোফায়েলের নিয়োগের যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, শিক্ষাগত সনদ, নিয়োগ কমিটির সুপারিশ এবং নিয়োগ অনুমোদনের নথি পরীক্ষা করা জরুরি।

তোফায়েলের ছোট ভাই হাবিবুর রহমানের রাজনৈতিক পরিচয় ও একটি হত্যাকাণ্ডের মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে মামলার নথি ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া তাঁকে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।

শিক্ষা ভবনের কর্মচারীর পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়ে তদন্তের দাবি

শিক্ষা ভবনের উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মচারী হিসেবে পরিচিত কবির আহমেদের পদোন্নতি, রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তি এবং সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে পদায়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, তৎকালীন মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুনের সময় ঘুষ ও প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত এক আত্মীয়ের সহায়তা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।

এ ছাড়া কবির আহমেদকে তাঁর নিজ উপজেলা বুড়িচংয়ে পদায়ন এবং অন্য কর্মকর্তা মান্নানকে অন্যত্র বদলির পেছনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।

তবে ঘুষ গ্রহণ বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এখনো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয়। বিষয়টি যাচাইয়ে নিয়োগের যোগ্যতা, পদ সৃষ্টির অনুমোদন, রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির আদেশ, বদলি-পদায়নের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুপারিশ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

তুষারধারায় ২৪ কাঠা জমির ওপর বহুতল ভবন: রাজউকের অনুমোদন কোথায়?

রাজধানীর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের তুষারধারা আবাসিক এলাকার ১০ নম্বর সেক্টরে ২৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত একটি বহুতল ভবন নিয়ে বিশেষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, ভবনটির সঙ্গে সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবনটির নির্মাণে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর), সেটব্যাক এবং অন্যান্য প্রযোজ্য নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ভবনটি ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

এ ক্ষেত্রে ভবনটির প্রকৃত মালিকানা, জমির দলিল, রাজউকের অনুমোদিত নকশা, সংশোধিত নকশা, নির্মাণ পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং অকুপেন্সি সনদ যাচাই করা জরুরি।

অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের অমিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হচ্ছে।

ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ার: ২০২২ সালের অভিযানের পর কী ঘটেছিল?

তুষারধারা আবাসিক এলাকার ৯ নম্বর সেক্টরে বায়তুশ শরীয়ত মসজিদের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ‘ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ার’ নিয়েও নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ২০২২ সালে রাজউক ভবনটিতে অভিযান চালিয়ে কিছু অংশ ভেঙে দেয় এবং মুচলেকার মাধ্যমে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করে। তাঁদের দাবি, পরবর্তী সময়ে ভবনটির নির্মাণকাজ আবার সম্পন্ন হয় এবং অকুপেন্সি সনদ ছাড়াই ব্যবহার শুরু করা হয়।

তবে অভিযানের পর ভবনটির প্রকৃত অবস্থা কী ছিল, পুনরায় নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল কি না এবং বর্তমানে প্রয়োজনীয় সনদ রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর সরকারি নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

রাজউকের অভিযান প্রতিবেদন, মুচলেকা, পরবর্তী পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং অকুপেন্সি সনদসংক্রান্ত নথি প্রকাশ বা যাচাই করা হলে অভিযোগটির প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হতে পারে।

মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্ট: পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান ও ফ্ল্যাট নির্মাণের অভিযোগ

তুষারধারা আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সেক্টরের ‘মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্ট’ নিয়েও মালিকানা বিরোধ ও নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা ভবনের উন্নয়ন প্রকল্পের কম্পিউটার অপারেটর আবু সেলিম ও মো. শাহাজাহান ২০১৭ সাল থেকে ভবনটির বিষয়ে রাজউক ও দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দিয়ে আসছেন।

তাঁদের দাবি, ২০১৯ ও ২০২২ সালে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জরিমানা, মুচলেকা এবং নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান ও ফ্ল্যাট নির্মাণের অভিযোগও উঠেছে।

এ ছাড়া ফ্ল্যাট বিক্রির পর কাগজপত্র পরিবর্তনের অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে ফ্ল্যাটের দলিল, নিবন্ধন নথি, অনুমোদিত নকশা, রাজউকের পরিদর্শন প্রতিবেদন, জরিমানার আদেশ এবং দুদকে দাখিল করা অভিযোগের মূল কপি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

সরকারি আবাসন বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন

নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত যদুপুর গ্রামের ওমর ফারুককে ধানমন্ডিতে অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়েও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা দরকার।

এ বিষয়ে বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তির চাকরির পদ, আবাসন পাওয়ার যোগ্যতা, আবেদনপত্র, প্রযোজ্য নীতিমালা এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করা হলে বরাদ্দের বৈধতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।

সম্পদ অর্জন, ডেভেলপার ব্যবসা ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ

অভিযোগকারীদের তালিকায় রফিক, তোফায়েল, মুমিন, হাবিবসহ কয়েকজনের নাম এসেছে। তাঁদের কেউ কেউ নজরুল ইসলামের কথিত ঘনিষ্ঠ বলয়ের সুবিধাভোগী বলে অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঢাকা, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি, ফ্ল্যাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সম্পদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। কুমিল্লার বুড়িচং এলাকায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তির মালিকানা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

মুমিনের নিয়োগ, সম্পদ অর্জন, প্লটের মালিকানা, স্কুল ও হাসপাতালের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালক পদে নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার নামে ১১ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের বক্তব্যে সিস্টেম অ্যানালিস্ট শাহিনের নামও এসেছে।

এ ছাড়া কাজী মামন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফ্ল্যাটের মালিকানা, দখল, বদলি-বাণিজ্য এবং ঠিকাদারি কাজের তদবিরে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদ বিবরণী, আয়কর রিটার্ন, জমির দলিল, কোম্পানির মালিকানা, প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক লেনদেন এবং চাকরিসংক্রান্ত নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

সম্পদ থাকা বা কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকাই অপরাধের প্রমাণ নয়। সম্পদের বৈধ উৎস, আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য এবং অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ আছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।

যেসব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের নাম এসেছে

অভিযোগকারীদের দেওয়া তালিকায় কনটেক ডেভেলপার, ওয়ানল্যান্ড ডেভেলপার, কনফিডেন্স গ্রুপ, রোজ গার্ডেন অ্যাসোসিয়েশন, মিশন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, বুড়িচং পলিটেকনিক, বুড়িচং আধুনিক হাসপাতাল, বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, রওশন-সিরাজ ফাউন্ডেশন, মিশন শ্যামলিমা, মিশন লাইট হাউজ, মিশন গার্ডেন ঢাকা এবং কনফিডেন্স সফটওয়্যারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, তালিকাভুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পদ অর্জন, ডেভেলপার কার্যক্রম কিংবা বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণের সম্পর্ক রয়েছে।

তবে তালিকাভুক্ত সব প্রতিষ্ঠান একই ধরনের অনিয়মে জড়িত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যাচাইকৃত তথ্য এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, প্রকৃত মালিকানা, পরিচালনা পর্ষদ, আর্থিক লেনদেন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম আলাদাভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

দুদকে অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি: কী কী বিষয় তুলে ধরা হবে?

দৈনিক সময়ের কণ্ঠের সম্পাদক মোহাম্মদ বোরহান হাওলাদার জসিমের উদ্যোগে অভিযোগগুলোর পক্ষে প্রাসঙ্গিক নথি সংগ্রহ ও যাচাইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ দাখিল করা হলে তা প্রমাণযোগ্য তথ্য, সংশ্লিষ্ট নথি এবং তদন্তযোগ্য বিষয়ের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হবে।

প্রস্তাবিত অভিযোগে বিশেষভাবে যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে, সেগুলো হলো—

১. পদোন্নতির প্রশাসনিক ভিত্তি: সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের পদোন্নতির আদেশ, তারিখ, সংশ্লিষ্ট পদ ও গ্রেড এবং প্রযোজ্য বিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।

২. ভবন নির্মাণ ও অনুমোদন: তুষারধারার ১০ নম্বর সেক্টরের বহুতল ভবন, ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ার এবং মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্টের মালিকানা, অনুমোদিত নকশা, বাস্তব নির্মাণ ও অকুপেন্সি সনদের অবস্থা।

৩. রাজউকের পূর্ববর্তী অভিযান: ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ার ও মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে ২০১৯ ও ২০২২ সালের কথিত অভিযান, জরিমানা, মুচলেকা এবং পরবর্তী নির্মাণকাজের বৈধতা।

৪. নিয়োগ ও পদায়ন: কবির আহমেদের চাকরিতে প্রবেশ, রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তি, পদোন্নতি ও বদলি-পদায়নের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথি।

৫. সরকারি আবাসন বরাদ্দ: ওমর ফারুকের নামে ধানমন্ডিতে অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।

৬. সম্পদ অর্জনের উৎস: অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদের মালিকানা, বৈধ আয়ের উৎস, আর্থিক লেনদেন এবং প্রাসঙ্গিক নথি।

৭. কথিত আর্থিক লেনদেন: চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণসহ যেসব আর্থিক অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর পক্ষে রসিদ, ব্যাংক লেনদেন, লিখিত অভিযোগ, সাক্ষ্য কিংবা অন্য কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ রয়েছে কি না।

দুদকের এখতিয়ারভুক্ত কোনো অপরাধের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে উপস্থাপন করে আইনানুগ তদন্তের আবেদন জানানো হবে। ভবন নির্মাণসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে রাজউক এবং নিয়োগ-পদোন্নতিসংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের তদন্তও গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহির দাবি

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, পদোন্নতি থেকে শুরু করে সম্পদ অর্জন, সরকারি আবাসন বরাদ্দ, নিয়োগ-পদায়ন এবং ভবন নির্মাণ—প্রতিটি বিষয়ের পেছনে থাকা নথি যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

তাই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে ফ্ল্যাট ক্রেতাদের অভিযোগ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

অভিযোগের নিষ্পত্তি হোক নথি ও নিরপেক্ষ তদন্তে

সরকারি পদে পদোন্নতি, সম্পদ অর্জন কিংবা ভবনের মালিকানা নিজে থেকেই অপরাধের প্রমাণ নয়। একইভাবে অভিযোগ উত্থাপিত হলেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। তবে কোনো সাবেক সরকারি কর্মকর্তাকে ঘিরে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য অভিযোগ সামনে এলে তা নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। পদোন্নতির আদেশ, সম্পদ বিবরণী, জমির দলিল, ভবনের অনুমোদিত নকশা, নিয়োগ ও বদলি-পদায়নের নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করেই প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করতে হবে।

দৈনিক সময়ের কণ্ঠের সম্পাদক মোহাম্মদ বোরহান হাওলাদার জসিমের বক্তব্য, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর সত্যতা নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তুষারধারার ভবনগুলোর অনুমোদন ও নির্মাণবিধি, প্রশাসনিক পদোন্নতির প্রক্রিয়া এবং সম্পদ অর্জনের উৎস নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর উত্তর সংশ্লিষ্ট নথি ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই সামনে আসা উচিত।

দৈনিক সময়ের কণ্ঠের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য গ্রহণ এবং সরকারি নথি যাচাইয়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম ও প্রতিবেদনে উল্লিখিত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।