ঢাকাThursday , 8 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলামিক
  7. কবিতা
  8. কলাম
  9. কুমিল্লা জেলার খবর
  10. খেলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা খবর
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. দৈনিক জনতার মতামত পরিবার
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দেবিদ্বারের বিএনপির রাজনীতি নিয়ে নানা প্রশ্ন: সিনিয়রদের মূল্যায়ন, ত্যাগী কর্মীদের অবস্থান ও নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা

Shahjahan Bashar
October 8, 2026 5:23 am
Link Copied!

২৯

দেবিদ্বার প্রতিনিধি | মোঃ আল-আমিন, মালদ্বীপ প্রবাসী
দেবিদ্বারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে মন চায়, আবার অনেক সময় মন চায় না। কিন্তু চোখের সামনে যখন নানা ধরনের কথাবার্তা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখতে হয়, তখন নীরব থাকাও কঠিন হয়ে পড়ে।
বর্তমান সময়ে দেবিদ্বারের রাজনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একসময় বলা হতো—কর্মী কম, নেতা বেশি। আর এখন অনেকের ভাষ্য, নেতা কম, কর্মী বেশি; কখনো কখনো কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।
বিশেষ করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন হচ্ছে—
দলের মধ্যে বিভাজন ও গ্রুপিং কি রাজনৈতিক দুর্বলতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে? সিনিয়রদের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে কি? ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা কি তাদের প্রাপ্য সম্মান পাচ্ছেন? যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন হচ্ছে কি?
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—দলের দুঃসময়ে যারা পাশে ছিলেন, তাদের রাজনৈতিক অবদান কি সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে ভুলে যাওয়া উচিত?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্য, পাল্টাপাল্টি মন্তব্য, আন্দোলন ও মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে দেবিদ্বারের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও মুন্সী পরিবারের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে একদিকে সমর্থকদের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে সমালোচনাও রয়েছে।
আমি কোনো পক্ষের অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই না। তবে প্রশ্ন হলো—দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক, অবদান ও ত্যাগকে কি বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা উচিত?
দেবিদ্বারের রাজনীতিতে মঞ্জু মুন্সী ও তারেক মুন্সীসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীর ভূমিকা নিয়ে মানুষের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। কেউ মনে করেন, তাদের রাজনৈতিকভাবে পুনরায় দায়িত্বশীল অবস্থানে আনা হলে দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়তে পারে। আবার কেউ মনে করেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে মতের পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেই মতপার্থক্য যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপমান, গুজব কিংবা দুই পরিবারের মধ্যে বিভেদ তৈরির কারণ না হয়—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দেবিদ্বারের মানুষ নিশ্চয়ই এমন রাজনীতি চান না, যেখানে একজনকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে আরেকজনকে অপমান করতে হবে। বরং প্রয়োজন যোগ্যতার মূল্যায়ন, সিনিয়রদের সম্মান, ত্যাগীদের স্বীকৃতি এবং তরুণদের জন্য সঠিক নেতৃত্বের সুযোগ।
আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—
দেবিদ্বারের বিএনপিকে ভবিষ্যতে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে নেতৃত্বের দায়িত্ব কার হাতে দেওয়া হবে?
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, যার ওপর দেবিদ্বারের বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আস্থা বেশি, তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতাকে দলীয়ভাবে মূল্যায়ন করা উচিত।
একই সঙ্গে যেসব নেতাকর্মী বিভিন্ন কারণে দলীয় দায়িত্বের বাইরে রয়েছেন বা বহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছেন, তাদের বিষয়গুলোও দলীয় নিয়ম, ন্যায়বিচার ও সাংগঠনিক বিবেচনায় পুনর্মূল্যায়ন করা যেতে পারে—যদি দলীয় কর্তৃপক্ষ তা যুক্তিসঙ্গত মনে করে।
আমি কারও নাম ধরে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছি না। আমার বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে জনস্বার্থ, রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ও দেবিদ্বারের মানুষের প্রত্যাশার জায়গা থেকে।
আমি সবসময় চেষ্টা করি নিরপেক্ষভাবে কথা বলতে—
যিনি ভালো করবেন, তার ভালো কাজের প্রশংসা করব।
যিনি ভুল করবেন, তার ভুলের সমালোচনা করব।
কিন্তু অন্যায়ের সঙ্গে আপস করব না।
আমার বক্তব্যে যদি কেউ ব্যক্তিগত আক্রমণের অর্থ খুঁজে পান, তার জন্য আমি দুঃখিত। কাউকে হেয় করা আমার উদ্দেশ্য নয়। বরং দেবিদ্বারের রাজনৈতিক পরিবেশ যেন আরও সুন্দর, সহনশীল ও ঐক্যবদ্ধ হয়—সেটাই প্রত্যাশা।
সবশেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান—দেবিদ্বারের রাজনৈতিক বাস্তবতা, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামত এবং জনগণের প্রত্যাশা বিবেচনা করে যার হাতে দেবিদ্বারের বিএনপির নেতৃত্ব সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর হবে, তার ওপরই দায়িত্ব অর্পণ করা হোক।
আর দলীয় সিদ্ধান্তে বহিষ্কার বা দায়িত্বচ্যুত নেতাকর্মীদের বিষয়ে যদি পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকে, তাহলে যোগ্যতা, অবদান ও সাংগঠনিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিষয়গুলো বিবেচনা করা হোক।
কারণ—ব্যক্তি নয়, দল বড়। দল নয়, তারও আগে দেশ।আর সবকিছুর আগে জনগণের স্বার্থ।দেবিদ্বারের রাজনীতি হোক বিভাজনমুক্ত, সম্মানজনক ও জনগণমুখী—এটাই প্রত্যাশা।

মোঃ আল-আমিন
মালদ্বীপ প্রবাসী | সাংবাদিক
নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে দেবিদ্বারের মানুষের কথা বলার চেষ্টা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।