ঢাকাSaturday , 15 August 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলামিক
  7. কবিতা
  8. কলাম
  9. কুমিল্লা জেলার খবর
  10. খেলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা খবর
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. দৈনিক জনতার মতামত পরিবার
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৩৩ ধরনের ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে তেলাপোকা, বাড়ায় অ্যালার্জি-হাঁপানির ঝুঁকি

News Admin
August 15, 2026 8:59 am
Link Copied!

৪৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

তেলাপোকা শুধু ঘরবাড়ির বিরক্তিকর কীট নয়; এটি খাদ্য ও বিভিন্ন পৃষ্ঠে জীবাণু বহন করে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় তেলাপোকার শরীর ও মল থেকে সালমোনেলা, ইশেরিশিয়া কোলাই, শিগেলা, স্ট্যাফাইলোকক্কাসসহ নানা ধরনের রোগজীবাণু শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যেও তেলাপোকাকে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, খাদ্যবাহিত রোগ ও অন্যান্য জীবাণু ছড়ানোর সম্ভাব্য যান্ত্রিক বাহক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণা পর্যালোচনায় তেলাপোকার সঙ্গে ৩০টির বেশি রোগজীবাণু-ব্যাকটেরিয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। একটি গবেষণা পর্যালোচনায় তেলাপোকার মধ্যে খাদ্যবাহিত রোগজীবাণু হিসেবে E. coli O157:H7, Staphylococcus aureus, Shigella dysenteriae, Salmonella Typhi-সহ বিভিন্ন জীবাণু এবং কিছু পরজীবী শনাক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কীভাবে ছড়ায় জীবাণু?

তেলাপোকা সাধারণত ময়লা-আবর্জনা, ড্রেন, নর্দমা ও বর্জ্যের সংস্পর্শে আসে। এরপর তার পা, শরীরের বিভিন্ন অংশ ও মুখের মাধ্যমে জীবাণু খাবার বা রান্নাঘরের বিভিন্ন পৃষ্ঠে স্থানান্তর করতে পারে। WHO-র তথ্য অনুযায়ী, তেলাপোকা নোংরা পরিবেশ থেকে জীবাণু তুলে নিয়ে পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশের মাধ্যমে খাদ্যে পৌঁছে দিতে পারে।

তেলাপোকার মল, লালা, ডিমের আবরণ ও ঝরে পড়া শরীরের অংশও মানুষের জন্য অ্যালার্জেনের উৎস হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (EPA) বলছে, তেলাপোকার মল ও শরীরের অংশে থাকা কিছু প্রোটিন অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এবং হাঁপানির উপসর্গ বাড়াতে পারে।

যেসব রোগের সঙ্গে তেলাপোকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে

তেলাপোকার মাধ্যমে জীবাণু ছড়ানোর সম্ভাবনার কারণে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • খাদ্যবাহিত অসুস্থতা ও ফুড পয়জনিং
  • ডায়রিয়া
  • আমাশয়
  • টাইফয়েড
  • সালমোনেলোসিস
  • বিভিন্ন পরজীবী সংক্রমণ
  • ত্বকের অ্যালার্জি
  • অ্যালার্জিজনিত সমস্যা
  • হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট

WHO তেলাপোকার সঙ্গে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, খাদ্যবাহিত রোগ ও কলেরাসহ বিভিন্ন রোগের সম্ভাব্য সংযোগের কথা উল্লেখ করেছে।

হেপাটাইটিস-এ নিয়েও উদ্বেগ

কিছু গবেষণায় তেলাপোকার সঙ্গে হেপাটাইটিস-এ ভাইরাসের উপস্থিতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে তেলাপোকাই মানুষের হেপাটাইটিস-এ সংক্রমণের প্রধান বা একমাত্র কারণ। গবেষণাগুলো মূলত তেলাপোকাকে সম্ভাব্য যান্ত্রিক বাহক হিসেবে বিবেচনা করে।

তেলাপোকার কামড়ে কী হতে পারে?

তেলাপোকার কামড় মানুষের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বিরল। কামড় হলে স্থানীয়ভাবে জ্বালাপোড়া, ব্যথা, চুলকানি, লালচে ভাব বা ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। তবে তেলাপোকার ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্যের বড় উদ্বেগ সাধারণত কামড় নয়; বরং এর মল, লালা, ঝরে পড়া শরীরের অংশ ও খাদ্য দূষণের মাধ্যমে জীবাণু এবং অ্যালার্জেন ছড়ানোর সম্ভাবনা।

তেলাপোকার অ্যালার্জি ও হাঁপানির ঝুঁকি

তেলাপোকার মল, লালা, ডিমের আবরণ ও শরীরের খোসায় থাকা অ্যালার্জেন বাতাস ও ঘরের ধুলোর সঙ্গে মিশে সংবেদনশীল ব্যক্তির অ্যালার্জি ও হাঁপানির উপসর্গ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে তেলাপোকার অ্যালার্জেনের সংস্পর্শ নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ রয়েছে।

WHO-র সাম্প্রতিক জনস্বাস্থ্যবিষয়ক নথিতেও তেলাপোকার অ্যালার্জেনকে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তেলাপোকা থেকে সুরক্ষায় করণীয়

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—

১. রান্নাঘর ও খাবারের জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

২. খাবারের উচ্ছিষ্ট ও ময়লা দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে।

৩. খাবার খোলা অবস্থায় না রেখে ঢাকনা বা বায়ুরোধী পাত্রে রাখতে হবে।

৪. ডাস্টবিন ঢাকনাযুক্ত ব্যবহার করতে হবে এবং নিয়মিত খালি করতে হবে।

৫. রান্নাঘরের সিঙ্ক, ড্রেন ও অন্ধকার স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে।

৬. দেয়াল, ক্যাবিনেট ও পাইপের আশপাশের ফাঁকফোকর বন্ধ করতে হবে।

৭. তেলাপোকার উপদ্রব বেশি হলে নিরাপদ ও অনুমোদিত কীটনাশক বা পেস্ট-কন্ট্রোল পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।

৮. কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই পণ্যের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে, কারণ ভুলভাবে ব্যবহৃত কীটনাশক মানুষের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি

তেলাপোকার সংস্পর্শের পর ত্বকে তীব্র ফোলা, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা ঠিক নয়।

ডা. শাকিল মাহমুদ
সহকারী অধ্যাপক
গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ, সাভার, ঢাকা

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।