স্টাফ রিপোটার মোহাম্মদ মাহামুদুল
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ২নং বাকশীমূল ইউনিয়নের কালিকাপুর বাজার জামে মসজিদ সরকারি উপজেলা ওয়েবসাইটে মসজিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অথচ সরকারি সম্মানি ভাতার আওতায় নির্বাচিত মসজিদের তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির নাম না থাকায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের কাছে ইউনিয়নের অন্যতম কেন্দ্রীয় মসজিদ হিসেবে পরিচিত এ মসজিদটি কালিকাপুর বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত। এর আশপাশে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, কালিকাপুর আব্দুল মতিন খসরু সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কালিকাপুর ছাড়াও আনন্দপুর, শ্রীমন্তপুর, চিনাইয়া, কোদালিয়া, আজ্ঞাপুর ও বাকশীমূলসহ আশপাশের এলাকার মুসল্লিরা নিয়মিত এ মসজিদে নামাজ আদায় করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মসজিদটির নিজস্ব উল্লেখযোগ্য আয়-সম্পদ সীমিত। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা ও ধর্মীয় কার্যক্রম মূলত মুসল্লিদের দান-সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের সরাসরি প্রশ্ন—যে মসজিদটির নাম সরকারি উপজেলা ওয়েবসাইটের মসজিদ তালিকায় রয়েছে, সেই মসজিদ সরকারি সম্মানি ভাতার জন্য নির্বাচিত তালিকায় নেই কেন?
আরও প্রশ্ন উঠছে, তালিকা প্রণয়নের সময় কালিকাপুর বাজার জামে মসজিদের নাম কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব করা হয়েছিল? প্রস্তাব করা হয়ে থাকলে কোন পর্যায়ে তা বাদ পড়েছে? আর প্রস্তাব না করা হয়ে থাকলে, তার কারণ কী?
বিশেষ করে স্থানীয়দের দাবি, আশপাশের কিছু মসজিদের নামে জমি বা বিভিন্ন উৎস থেকে আয়-সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সেগুলো নির্বাচিত তালিকায় স্থান পেয়েছে। বিপরীতে দাননির্ভর এই গুরুত্বপূর্ণ মসজিদটি কেন বাদ পড়েছে—তা নথিপত্রের ভিত্তিতে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
স্থানীয় মুসল্লিরা বলছেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়; বরং সরকারি তালিকা প্রণয়নের স্বচ্ছতা নিয়ে একটি যৌক্তিক প্রশ্ন।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মসজিদটির প্রস্তাবনা, যাচাই-বাছাই, যোগ্যতা ও বাদ পড়ার কারণ নথিপত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করুক। কোনো প্রশাসনিক বা তথ্যগত ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
একই মসজিদ সরকারি ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত, অথচ সরকারি সম্মানি ভাতার নির্বাচিত তালিকায় অনুপস্থিত—এই দুই তথ্যের মধ্যে পার্থক্যের কারণ কী?
এই প্রশ্নের স্বচ্ছ ও নথিভিত্তিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন কালিকাপুর বাজার জামে মসজিদের মুসল্লিরা।

