ঢাকাFriday , 2 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলামিক
  7. কবিতা
  8. কলাম
  9. কুমিল্লা জেলার খবর
  10. খেলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা খবর
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. দৈনিক জনতার মতামত পরিবার
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুমিল্লা-৫-এর রাজনীতিতে আব্দুল মতিন খসরু ও অধ্যক্ষ ইউনুস: পারস্পরিক শ্রদ্ধা, রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও স্মৃতির এক অনন্য অধ্যায়

Shahjahan Bashar
October 2, 2026 10:14 am
Link Copied!

৫৮

নিজস্ব প্রতিবেদন

কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের রাজনৈতিক ইতিহাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক আইনমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু এবং সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. ইউনুস—দুইজনই নিজ নিজ রাজনৈতিক অবস্থান, নেতৃত্ব ও জনসম্পৃক্ততার কারণে স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁদের রাজনৈতিক জীবন, পারস্পরিক সম্পর্ক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জনসেবার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা আজও কুমিল্লা-৫-এর রাজনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্য বহন করে।

রাজনীতি শুধু ক্ষমতা অর্জন কিংবা নির্বাচনে জয়লাভের প্রতিযোগিতা নয়; রাজনীতি হলো মানুষের কল্যাণে কাজ করা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ভিন্নমতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত রেখে যাওয়া। একটি এলাকার রাজনৈতিক ইতিহাসে যেসব নেতা নিজেদের কর্ম, ত্যাগ ও নেতৃত্বের মাধ্যমে পরিচিতি অর্জন করেন, তাঁদের স্মৃতি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে রাজনৈতিক ঐতিহ্যের অংশ হয়ে থাকে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন খসরু ছিলেন দেশের আইন অঙ্গন ও জাতীয় রাজনীতির পরিচিত ব্যক্তিত্ব। আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ সংসদীয় রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল। অন্যদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. ইউনুস ছিলেন শিক্ষাবিদ ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন সাবেক সংসদ সদস্য। ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁরা একই জনপদের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছেন।

কুমিল্লা-৫-এর রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁদের নাম উচ্চারিত হলে স্বাভাবিকভাবেই অতীতের রাজনৈতিক পরিবেশ, নেতৃত্বের ধরন, পারস্পরিক সম্পর্ক ও জনসেবার প্রসঙ্গ সামনে আসে। তাঁদের মধ্যকার সম্পর্কের নির্দিষ্ট ঘটনা ও স্মৃতিচারণ যথাযথ তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তবে তাঁদের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বর্তমান নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা জরুরি।

আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কুমিল্লা-৫-এর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নেতৃবৃন্দের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি দায়িত্বশীল, উন্নয়নমুখী ও জনবান্ধব রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলা। বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা—এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, কৃষি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

একজন প্রকৃত রাজনৈতিক নেতার পরিচয় শুধু তাঁর দলীয় পদ-পদবি কিংবা নির্বাচনী সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখা, জনগণের কথা শোনা, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখার মধ্য দিয়েই একজন নেতা মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেন। ক্ষমতা ও পদ-পদবি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হলেও জনকল্যাণে নিবেদিত কাজ মানুষের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে।

কুমিল্লা-৫-এর বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি প্রত্যাশা, তাঁরা যেন দলীয় বিভাজন ও ব্যক্তিগত বিরোধের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে আন্তরিক হন। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকুক আদর্শ, কর্মসূচি ও জনসেবার ভিত্তিতে। ভিন্নমত থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যেন কখনো বিসর্জিত না হয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে উঠলে সাধারণ মানুষও তার সুফল ভোগ করতে পারে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন খসরু ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. ইউনুসের রাজনৈতিক জীবন ও অবদান নিয়ে নিরপেক্ষ, তথ্যভিত্তিক আলোচনা এবং স্মৃতিচারণ কুমিল্লা-৫-এর রাজনৈতিক ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁদের মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক পথচলা, সংসদীয় দায়িত্ব এবং জনসম্পৃক্ততার ইতিবাচক দিকগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাঁদের রাজনৈতিক জীবনের ঘটনাবলি ও পারস্পরিক সম্পর্কের মূল্যায়নে যথাযথ ইতিহাস ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

একটি জনপদের রাজনৈতিক ঐতিহ্য কেবল অতীতের নেতাদের স্মরণ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটি সুন্দর রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। কুমিল্লা-৫-এর বর্তমান নেতৃত্ব যদি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, জনসেবা ও উন্নয়নকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে স্থান দেয়, তাহলে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায় গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ইতিহাসের শিক্ষা হলো, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ, কিন্তু সেই পার্থক্য যেন সামাজিক সম্প্রীতি ও এলাকার উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সৌহার্দ্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে একটি এলাকার অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হতে পারে। তাই কুমিল্লা-৫-এর রাজনৈতিক অঙ্গনে অতীতের অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের মধ্যে দায়িত্বশীলতা ও জনকল্যাণের মানসিকতা গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন খসরু ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. ইউনুসের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই, তাঁদের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা ও অবদান নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হোক, সংরক্ষিত হোক কুমিল্লা-৫-এর রাজনৈতিক ইতিহাস। বর্তমান ও আগামী দিনের নেতৃবৃন্দ তাঁদের নিজ নিজ রাজনৈতিক আদর্শে অবিচল থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করুন এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও পারস্পরিক সম্মানের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখুন।

রাজনীতির প্রকৃত সৌন্দর্য প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভিন্নমতকে সম্মান করে মানুষের আস্থা অর্জন, জনকল্যাণে অবদান রাখা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক রাজনৈতিক দৃষ্টান্ত রেখে যাওয়ার মধ্যেই নেতৃত্বের স্থায়ী মর্যাদা নিহিত।

আসুন, ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, জনকল্যাণকে রাজনীতির মূল লক্ষ্য করি। বিভাজন নয়, সম্প্রীতি; প্রতিহিংসা নয়, সহনশীলতা; ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়, মানুষের অধিকার ও উন্নয়ন—এই হোক কুমিল্লা-৫-এর আগামী দিনের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। অতীতের নেতাদের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান নেতৃত্ব এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলুক, যেখানে দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষের মর্যাদা, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত হয়।

লেখক: মোঃ শাহজাহান বাশার
সাংবাদিক, দৈনিক জনতার মতামত ও দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিন
যুগ্ম আহ্বায়ক, বাংলাদেশ অনলাইন গণমাধ্যম সম্পাদক পরিষদ, ঢাকা

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।