মো: সবুজ হোসেন রাজা, শাহজাদপুর প্রতিনিধি:
মানুষ যখন গভীর ঘুমে, তখনও অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে ছুটে চলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক দলের শাহজাদপুর পৌর শাখার সভাপতি মাসুম সরকার। গত ছয় মাস ধরে নীরবে শাহজাদপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও আশপাশের এলাকায় চিরঅবহেলিত, অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।
মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’, এই মর্মবাণীকে হৃদয়ে ধারণ করে শ্রমিক দলের একদল তরুণ নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে মানবিক এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন মাসুম সরকার।
গত ১০ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই শাহজাদপুর পৌর এলাকার শেরখালী মহল্লায় চাল, ডালসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর বস্তা কাঁধে নিয়ে কয়েকজন অসহায় ও বৃদ্ধ মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দিতে দেখা যায় তাকে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক মো. সবুজ হোসেন রাজাসহ শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নীরবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করে আসছেন মাসুম সরকার। বিশেষ করে রাতের আঁধারে কোনো প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক দল, শাহজাদপুর পৌর শাখার সভাপতি মাসুম সরকার বলেন,
গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে যে তৃপ্তি ও ভালো লাগা পাই, তা অন্য কোনো কাজে পাই না। সামর্থ্য অনুযায়ী এভাবেই অসহায় মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চাই। মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।
তার বাবা মনু মেম্বারও একসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা করেছেন। বাবার কাছ থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
গভীর রাতে বাড়ির দরজায় খাদ্যসামগ্রী পেয়ে স্থানীয় অসহায় ও বয়স্ক মানুষগুলো আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা মাসুম সরকারের এ মানবিক উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করে দোয়া করেন।
নীরবে ও প্রচারের আড়ালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চলা মাসুম সরকারের এমন উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে। তার এই মানবিক কর্মকাণ্ডকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ইতিবাচক আলোচনা ও সাড়া।
মানবিকতার এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত হবেন, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

