আল আলী হোসেন জনি স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লায় একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩ লাখ পিস ইয়াবার চালান উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় গাড়িতে থাকা দুইজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর উপজেলার জাগুরজুলি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা ফয়সাল হোসেন (২৫) ও একই উপজেলার বাসিন্দা প্রাডো গাড়ির চালক আমান উল্লাহ (৩৫)। কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল আলম শাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জাগুরজুলি এলাকায় অবস্থান নেয় ডিবি পুলিশের একটি দল। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী সাদা রঙের একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি শনাক্ত করে সেটির গতিরোধ করা হয়।
পরে গাড়িটিতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে গাড়িতে থাকা একটি লাগেজের ভেতর স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ইয়াবার বড় একটি চালান দেখতে পায় পুলিশ। লাগেজটি খুলে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা ইয়াবা গণনা করে প্রায় ৩ লাখ পিস পাওয়া যায়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ কোটি টাকা। ইয়াবা উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তিনি ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে জানান।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ইয়াবার চালানটি কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোথায় পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা ইয়াবার চালানটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে নেওয়া হচ্ছিল। তবে এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং চালানটির মূল গন্তব্য কোথায় ছিল, তা জানতে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় উদ্ধার করা ইয়াবা ও প্রাডো গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

