ঢাকাSaturday , 31 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলামিক
  7. কবিতা
  8. কলাম
  9. কুমিল্লা জেলার খবর
  10. খেলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা খবর
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. দৈনিক জনতার মতামত পরিবার
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুন্দর ব্যবহার ও আচরণের বিনিময়ে জান্নাত! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

Shahjahan Bashar
October 31, 2026 9:43 am
Link Copied!

১৫

নিজস্ব প্রতিবেদন

নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ, সুন্দর ব্যবহার ও ভালো আচরণ ইসলামের অন্যতম এক মহৎ গুণ, যার বিনিময়ে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাকে জান্নাত দান করবেন। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী তাঁর বিভিন্ন আলোচনা ও লেখায় পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে এই বিষয়টি অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
ইসলামে সুন্দর আচরণের গুরুত্ব ও এর বিনিময়ে জান্নাত প্রাপ্তি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলোচনা করছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী তাঁর লেখা ও আলোচনায় ইসলামে সুন্দর ব্যবহার ও উত্তম আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
ঈমানের পূর্ণতা ও সর্বোত্তম মানুষ
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “মুমিনদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে পূর্ণ ঈমানের অধিকারী, যে চরিত্রের দিক থেকে সবচেয়ে উত্তম।” ভালো আচরণ
কেবল সামাজিক ভদ্রতা নয়, বরং এটি একজন মানুষের ঈমানের বহিঃপ্রকাশ।
মিজানের পাল্লায় সবচেয়ে ভারী বস্তু
কিয়ামতের দিন বান্দার আমলনামা যখন পরিমাপ করা হবে, তখন সুন্দর আচরণের ওজন হবে সবচেয়ে বেশি। হাদিসে এসেছে, “কিয়ামতের দিন মুমিনের মিজানের (আমলের পাল্লায়) উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী আর কোনো জিনিস থাকবে না।” (তিরমিযী)
জান্নাত লাভের সহজ মাধ্যম
একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কোন কাজটি মানুষকে সবচেয়ে বেশি জান্নাতে নিয়ে যাবে? তিনি উত্তরে বলেছিলেন, “আল্লাহর ভয় (তাকওয়া) এবং উত্তম চরিত্র।” (তিরমিযী)। অর্থাৎ, সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমেই জান্নাতের পথ সুগম হয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নৈকট্য লাভ
জান্নাতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছাকাছি থাকার সৌভাগ্য অর্জিত হবে সুন্দর আচরণের মাধ্যমে। নবীজী (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে কাছে বসবে, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।” (তিরমিযী)
সামাজিক শান্তি ও সৌহার্দ্য
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী প্রায়শই তাঁর বয়ানে জোর দিয়ে বলেন যে, মানুষের সাথে হাসিমুখে কথা বলা, বিপদে সাহায্য করা এবং কারো মনে কষ্ট না দেওয়া একজন প্রকৃত মুসলমানের দায়িত্ব। সুন্দর আচরণ শত্রুতা দূর করে সমাজে শান্তি ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দেয়। মানুষের মন জয়: সুন্দর আচরণ মানুষের মন জয় করে, পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্মান ও শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করে। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত: উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব হয় এবং পরকালে এর বিনিময় হিসেবে জান্নাত লাভ হয়।
কিয়ামতের ময়দানে ওজন: কিয়ামতের দিন আমলের দাঁড়িপাল্লায় সুন্দর আচরণ সবচেয়ে ভারী আমলগুলোর একটি হিসেবে গণ্য হয়।
পারিবারিক ও সামাজিক শান্তি: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুযায়ী ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন পরিচালনা করতে পারলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব. মনে করেন হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।
মানুষের একটি ভালো কথা যেমন একজনের মন জয় করে নিতে পারে,তেমনি একটু খারাপ বা অশোভন আচরণ মানুষের মনে কষ্ট আসে।সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ হিসেবে আমাদের উচিৎ সর্বদা মানুষের সঙ্গে ভালো ও সুন্দরভাবে কথা বলা।
সুন্দর ব্যবহার ও আচার-আচরণ বলতে আমরা বুঝি কারও সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলা,দেখা হলে সালাম দেওয়া,কুশলাদি জিজ্ঞেস করা,কর্কশ ভাষায় কথা না বলা, ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত না হওয়া,ধমক বা রাগের সুরে কথা না বলা,পরনিন্দা না করা,অপমান-অপদস্ত না করা,উচ্চ আওয়াজে কথা না বলা,গম্ভীর মুখে কথা না বলা,সর্বদা হাসিমুখে কথা বলা,অন্যের সুখে সুখী হওয়া এবং অন্যের দুঃখে দুঃখী হওয়া।এছাড়া কারও বিপদে দেখা করে সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করা ও সুন্দর আচরণের অন্তর্ভুক্ত।
সুন্দর আচরণ আমরা সবাই প্রত্যাশা করি।কিন্তু আমরা প্রায়ই অন্যের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করতে ভুলে যাই।সামান্য একটু অসতর্কতার কারণে আমাদের আচরণে একজন মানুষ অনেক কষ্ট পেতে পারে।তাই আমাদের সবসময় সচেতন থাকা উচিত; যাতে আমাদের আচরণে কেউ বিন্দুমাত্র কষ্ট না পায়।
যার আচরণ যত বেশি সুন্দর সবাই তাকে তত বেশি ভালোবাসে,সম্মান ও শ্রদ্ধা করে।যার আচরণ ভালো নয় সবাই তাকে ঘৃণা করে ও এড়িয়ে চলে।সুন্দর ব্যবহার সুন্দরভাবে কথা বলা সুন্দর মনের পরিচয় বহন করে। মানুষের একটি ভালো কথা যেমন একজনের মন জয় করে নিতে পারে,তেমনি একটু খারাপ বা অশোভন আচরণ মানুষের মনে কষ্ট আসে।সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ হিসেবে আমাদের উচিৎ সর্বদা মানুষের সঙ্গে ভালো ও সুন্দরভাবে কথা বলা।
সুন্দর ব্যবহারের কারণে যে মুখটি প্রিয় হয়,বিপরীতভাবে অসুন্দর ব্যবহার করায় একই মুখটি অপ্রিয় হয়ে যায়।তাই সবার সঙ্গে সুন্দর আচরণ ও সুন্দর ব্যবহার করতে হবে। সুন্দর আচরণের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়, পরকালে বিনিময় হিসেবে মেলে অনন্ত সুখের জান্নাত।
এ প্রসঙ্গে হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলনামায় সুন্দর আচরণের চেয়ে অধিক ভারী আমল আর কিছুই হবে না।যে ব্যক্তি অশ্লীল ও কটু কথা বলে বা অশোভন আচরণ করে,তাকে আল্লাহতায়ালা ঘৃণা করেন।আর যার ব্যবহার সুন্দর সে তার ব্যবহারের কারণে নফল রোজা ও তাহাজ্জুদের সওয়াব লাভ করবে।’ -সুনানে তিরমিজি
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন,‘সবচেয়ে বেশি যা মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে তা হলো-আল্লাহতায়ালার ভয় ও সুন্দর আচরণ।আর সবচেয়ে বেশি যা মানুষকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবে তা হলো-(মানুষের) মুখ এবং লজ্জাস্থান।’ -সুনানে তিরমিজি
হজরত রাসূল (সা.) বলেছেন,‘সুন্দর আচরণই নেক আমল।’–সহিহ মুসলিম
হাদিসে রাসূল (সা.) আরও বলেছেন,‘তোমাদের মধ্যে যার আচার-ব্যবহার সুন্দর,সে আমার সবচেয়ে বেশি প্রিয় এবং কিয়ামতের দিন সে আমার সবচেয়ে কাছে থাকবে।’-সুনানে তিরমিজি
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও ইরশাদ করেন,‘অশোভন-অশ্লীল কথা ও আচরণের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।আর যার আচরণ যত সুন্দর তার ইসলাম তত সুন্দর।’ -মুসনাদে আহমদ
আরেক হাদিসে আছে,রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘যার আচার-ব্যবহার সুন্দর,আমি তার জন্য সর্বোচ্চ জান্নাতে একটি বাড়ির নিশ্চয়তা প্রদান করছি।-সুনারে আবু দাউদ
হজরত রাসূল (সা.) আরও বলেছেন,‘যদি কেউ বিনম্রতা ও নম্র আচরণ লাভ করে তাহলে সে দুনিয়া ও আখেরাতের পাওনা সব কল্যাণই লাভ করল।আর রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সুন্দর আচরণ বাড়িঘর ও জনপদে বরকত দেয় এবং আয়ু বৃদ্ধি করে।’–আহমদ
মূল কথা: ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহার ও নৈতিকতা বজায় রাখাই হলো ইসলামের মূল শিক্ষা। দুনিয়াতে যারা মানুষের সাথে উত্তম আচরণ করবে, পরকালে তারাই লাভ করবে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও চিরস্থায়ী জান্নাত।
আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে সুন্দর ব্যবহার ও আচরণের তাওফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমীন।

লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: তৈয়ব কামাল হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা সিলেট।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।